টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার জন্য সোজা মুসলিমদের দায়ী করছে আরএসএস। তাই তাদের মোদী সরকারের কাছে প্রস্তাব শে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতি আনা হোক। কিন্তু দেশে দশ বছর অন্তর যে জনগণনা হয়, তার পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি দশ বছরে মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে কমে আসছে।

আরএসএসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৫১ থেকে ২০১১— দেশের মোট জনসংখ্যায় মুসলিমদের হার ৯.৮ শতাংশ থেকে ১৪.২৩ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু জনগণনার হিসেব বলছে, ২০০১-র তুলনায় ২০১১-তে মুসলিমদের সংখ্যা ২৪.৬ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে তার আগের দশকে, অর্থাৎ ১৯৯১-র তুলনায় ২০০১-তে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ২৯.৫ শতাংশ। আগের দশকগুলিকে এই হার ৩০ শতাংশের বেশি।

২০১১ জনগণনা

• মোট ১২১.০৯ কোটি
• হিন্দু ৯৬.৬৩ কোটি (জনসংখ্যার ৭৯.৮%)
• মুসলিম ১৭.২২ কোটি (জনসংখ্যার ১৪.২%)

মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার
১৯৫১-৬১    ৩২.৪%
১৯৬১-৭১    ৩০.৯%
১৯৭১-৮১     ৩০.৭%
১৯৮১-৯১     ৩২.৮%
১৯৯১-২০০১     ২৯.৫%
২০০১-২০১১     ২৪.৬%

জনসংখ্যা বৃদ্ধি কি আদৌ ভারতের চিন্তার কারণ? দ্বিতীয়বার মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে গত জুলাইয়ে কেন্দ্রের অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক সমীক্ষা কিন্তু উল্টো কথাই বলেছিল। আর্থিক সমীক্ষা বলেছিল, গোটা দেশে জন্মের হার কমছে। তার ফলে দেশের জনসংখ্যায় বয়স্কদের হার বেড়ে যাচ্ছে।

সঙ্ঘ পরিবারের নেতাদের আশঙ্কা, এ দেশে হিন্দুরা একসময় সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন। আরএসএসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৫১-য় মুসলিম ছাড়া বাকি ধর্মের মানুষেরা ছিলেন জনসংখ্যার ৮৮ শতাংশ। ২০১১-য় তা ৮৩.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু এই আশঙ্কা উড়িয়ে
দিচ্ছেন দেশে জনগণনার ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনারের কর্তারা।

তাঁদের যুক্তি, ২০১১-র জনগণনায় দেখা গিয়েছিল, তার আগের দশকে মুসলিমদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। ২০০১-এর তুলনায় ২০১১-তে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.৭ শতাংশ। মুসলিমদের ২৪.৬ শতাংশ। কিন্তু হিন্দুদের বৃদ্ধির হারও ছিল ১৬.৮ শতাংশ। মুসলিমরা জনসংখ্যার ১৪.২ শতাংশ হলে হিন্দুরা ৭৯.৮ শতাংশ। প্রতিটি জনগণনাতেই দেখা যাচ্ছে, হিন্দুদের মতোই মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে আসছে। ফলে হিন্দুদের সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার দূরদূরান্তে কোনও আশঙ্কা নেই।

জনগণনা বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, শিক্ষার হার, আয় বাড়লেই পরিবার পরিকল্পনার প্রভাব দেখা যায়। পারিবারিক সিদ্ধান্তগ্রহণে মহিলাদের ভূমিকা বেড়ে যায়। মুসলিমদের পুরুষ-নারীর অনুপাতও বেড়েছে। ২০০১-এ প্রতি হাজার জন মুসলিম পুরুষে মহিলাদের সংখ্যা ৯৩৬ ছিল। ২০১১-য় তা বেড়ে ৯৫১ হয়েছে। হিন্দু-খ্রিস্টানদের মতো মুসলিমদের মধ্যেও শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়ায় জন্মের হার কমতে শুরু করেছে।

সৌজন্য- আনন্দবাজার