টিডিএন বাংলা ডেস্ক : লোকসভার সঙ্গে ৪ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার লোকসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে গিয়ে একথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্ধ্র প্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশে একদফায় ভোট গ্রহণ হলেও ওডিশায় বিধানসভা ভোট গ্রহণ ৪ দফায় হবে। অন্ধ্র প্রদেশের ২৫টি লোকসভা কেন্দ্রের সঙ্গেই এই রাজ্যের ১৭৫টি বিধানসভা আসনের ভোট গ্রহণ ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই সিকিমে লোকসভার একটি আসনের সঙ্গে বিধানসভার ৩২টি আসনের ভোট গ্রহণ হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১১ এপ্রিল অরুণাচল প্রদেশের লোকসভা ও বিধানসভার ভোট গ্রহণ হবে। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে ৬০টি বিধানসভার সঙ্গে ২টি লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে। তবে, ওডিশায় ভোট গ্রহণ চার দফায় হবে বলে এদিন ঘোষণা করেছে কমিশন। আগামী ১১, ১৮, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল এই রাজ্যে ১৪৭টি বিধানসভার আসনের সঙ্গে লোকসভার ২১টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, লোকসভা নির্বাচনে বিজু জনতা দলের (বিজেডি) ৩৩ শতাংশই মহিলা প্রার্থী হবেন। রবিবার একথা ঘোষণা করেছন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। তাঁর দাবি, বিজেডি’র এই সিদ্ধান্ত দেশের মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রশ্নে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এদিন কেন্দাপাড়ায় দলীয় সমাবেশে একথা উল্লেখ করে পট্টনায়েক এদিন জানিয়েছেন, ওডিশা লোকসভায় ২১টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনেই বিজেডি মহিলা প্রার্থী দেবে। তবে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেডি’র দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে কত শতাংশ মহিলা থাকবেন তা নিয়ে এদিন কোনও কথা জানাননি বিজু পট্টনায়েক। গতবার ২১টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনেই জয়ী হয়েছিল বিজেডি। ওডিশার বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বিজেডি’র এই ঘোষণাকে নির্বাচনী চমক বলে কটাক্ষ করেছেন। এই চার রাজ্যে বর্তমান শাসক দলকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পড়তে হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ওডিশায় বিজেপি থাবা বসাতে চেষ্টা করছে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বিজেডি’র বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী মনোভাবও রয়েছে এই রাজ্যের মানুষের মধ্যে। এই অবস্থায় মহিলাদের মধ্যে নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক অটুট রাখতে লোকসভায় ৩৩শতাংশ আসনে মহিলা প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করেছেন দলের মুখ্য নেতা নবীন পট্টনায়েক। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেডি ১১৭টি আসনে জয়ী হলেও এবার আসন সংখ্যা কমতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। পবন চামলিঙয়ের নেতৃত্বাধীন এসডিএফ ফের ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা তা নিয়েও যথেষ্ট জল্পনা রয়েছে সিকিমে। ১৯৯৪ সাল থেকে টানা ২৫ বছর ক্ষমতায় আছেন তিনি। ষষ্ঠবারের জন্য তিনি এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন কিনা তা নির্ধারিত হবে আগামী ১১ এপ্রিল ভোট গ্রহণের দিন। অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুও জোর লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে চলেছেন। গতবার বিজেপি’র সঙ্গে জোট করে ১১৭টি আসনে জয়ী হয়েছিল নাইডুর নেতৃত্বাধীন টিডিপি। বিজেপি পেয়েছিল ৯টি আসন। গতবছর মার্চে এনডিএ শিবির ছেড়ে বেরিয়ে আসনে।

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিরোধীদের মধ্যে নাইডু এখন অন্যতম নেতা। কিন্তু ওয়াইএসআর কংগ্রেস তাঁকে যথেষ্ট বেগ দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। অরুণাচল প্রদেশে গতবার কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেও মাঝপথে অধিকাংশ বিধায়ককে নিয়ে বিজেপি’তে যোগ দেন তিনি। পিআরসি এবং নাগরিকত্ব ইস্যুতে যথেষ্ট চাপের মুখে আছেন খাণ্ডুরি। এই ইস্যুতে গোটা উত্তর পূর্বের সঙ্গে এই রাজ্যেও বিজেপি’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ চরমে। এই অবস্থায় খাণ্ডুরির ক্ষমতায় ফিরে আসা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। গণশক্তি