টিডিএন বাংলা ডেস্ক : দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার লড়েছিলেন তাঁদের জোটসঙ্গী আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এই লড়াই করতে গিয়ে মাত্র দুই বছরের মধ্যে ভেঙে যায় লালু-নীতিশের জোট সরকার ও মন্ত্রিসভা।
এরপরই জনতা দলের নেতা নীতীশ কুমার জোট বাঁধেন বিজেপির সঙ্গে। বিজেপিকে নিয়ে গড়েন ২৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা। বিহারে হয়ে যায় জেডিইউ-আরজেডি সরকারের পরিবর্তে নীতিশ কুমারের এনডিএ সরকার। ফের ষষ্ঠবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন নিতীশ কুমার আর উপমুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপির সুশীল কুমার মোদি। এই নীতিশ কুমার ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাসী। বিজেপির সঙ্গে সরকার গড়তে গিয়ে নিজেকে তিনি পাল্টে ফেললেন। তাঁর সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী পশুপতি কুমার পারাস ঘোষণা দিয়েছেন, বিহারেও বন্ধ করে দেওয়া হবে বেআইনি কসাইখানা।
এর আগে উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় এসে বিজেপির নেতা যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশে বেআইনি কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ জারি করেন। তারও আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দেশের পশুর হাট ও পশুর বাজারগুলোতে গবাদিপশু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এবার বিহারের ষষ্ঠবারের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নিতীশ কুমারের এনডিএ সরকার ঘোষণা করেছে, বিহারেও বেআইনি কসাইখানা বন্ধ করা হবে।
বিহারে ১ হাজার ৪৯০টি কসাইখানা রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে বলা হয়, এর মধ্যে মাত্র দুটি কসাইখানা বাদে সব কয়টি বেআইনি। রাজধানী পাটনাতেই রয়েছে ১২টি বেআইনি কসাইখানা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও বলা হয়েছে, বিহারে সবচেয়ে বেশি বেআইনি কসাইখানা রয়েছে কিষানগঞ্জ ও পূর্ণিয়া জেলায়। গত বৃহস্পতিবারও ভোজপুর জেলায় গরুর মাংস পরিবহনের অভিযোগে একটি বেআইনি কসাইখানার কর্মীদের মারধর করেন বজরং দলের সমর্থকেরা। এরপরই ওই কসাইখানা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
বিহারে কসাইখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডির সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব। দলের মুখপাত্র মনোজ ঝা বলেছেন, নীতিশ কুমার বিহার সরকারের মুখোশ মাত্র। আসলে বিহারের সরকার চালাচ্ছে বিজেপি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে নিতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে যে সরকার গড়েছেন, সেই সরকারের মন্ত্রিসভার ২৯ জন সদস্যের মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি মামলা।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। শুধু তা-ই নয়, এডিআরের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, নীতিশের এই নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে নয়জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি। এই মন্ত্রিসভায় কোটিপতির সংখ্যা ২২। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ২ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা।
গত ২৭ জুলাই নতুন করে গড়া নিতীশ-বিজেপির জোট সরকারে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নীতিশ কুমার।