টিডিএন বাংলা, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা করতে কেন্দ্রের পাঠানো পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা আজ নবান্নের রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল। রাজ্যের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা দক্ষিণ 24 পরগনার ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত কয়েকটি ব্লক ঘুরে দেখেন। পরে বিরোধী দল বাম ফ্রন্ট কংগ্রেস এবং বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের বক্তব্য শোনেন।
ওই বৈঠকে আম্পানকে জাতীয় বিপর্যয় হিসাবে ঘোষণা করার জন্য বিরোধী বাম-কংগ্রেস দাবি করেছে। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে সভাপতি সোমেন মিত্র ,প্রদীপ ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সোমেন বাবু বলেন, আম্পানকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করা হলে সরকারের পাশাপাশি দেশ বিদেশের ইচ্ছুক ব্যক্তি অথবা সংগঠন দুর্গতদের সাহায্য করতে পারবেন। বিরোধী দল নেতা আব্দুল মান্নান , দুর্গত মানুষদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি অর্থ সাহায্য পাঠানোর জন্য কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন।পাশাপাশি, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক দলকে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে দুর্গতদের বাড়ি-ঘর, কৃষিজমি প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করা ছাড়াও, নগদ ১০ হাজার করে টাকা দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।অন্যদিকে, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলও কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করে।ঝড়ের তাণ্ডবে নষ্ট হয়ে যাওয়া বাড়ি, বাঁধ, চাষের জমি নষ্ট দ্রুত মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা করা র আর্জি জানানো হয়েছে। এই দলে সুজন চক্রবর্তী ছাড়া মানস মুখোপাধ্যায়, তন্ময় ভট্টাচার্যরাও ছিলেন।
বৈঠকের পর সিপিআই এম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন আম্পান ঘূর্ণিঝড়কে জাতীয় বিপর্যয় আখ্যা দিতে তারা কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ত্রাণ ও ক্ষতি পূরণের টাকা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত দের হাতে পৌঁছায় তা দেখতে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা তৈরি করারও তাঁরা দাবি জানিয়েছেন। দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির প্রতিনিধি দলও কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকের পর দীলিপবাবু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ক্ষতিপূরণের টাকা যাতে নয় ছয় না হয় তা দেখ তে তারা অনুরোধ জানিয়েছেন।এজন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কে দিয়ে ক্ষতির সার্ভে করতে এবং বাঁধ তৈরীর মত কাজে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরদারি রাখতে তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়ারও তারা প্রস্তাব দেন। না হলে ক্ষতিপূরণের টাকা শাসক দলের নেতাদের পকেটে চলে যাবে বলে বিজেপি নেতৃত্ব আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।