টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন এক মহিলা কর্মী। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে অভিযোগ নিয়ে শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছেন, এর পিছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। তাই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা হুমকির মুখে এবং একে বলির পাঁঠা করতো দেওয়া যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন মহিলা কর্মী প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এফিডেভিট করে বিভিন্ন বিচারপতির কাছে বিচারের জন্য পাঠানোর পর সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করে। শুনানির সময় তিন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি বলেন, এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করার মত নিচে নামাও উচিত নয়। তবে এ নিয়ে তিনি কোনও নির্দেশ না দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে প্রবীণ বিচারপতি অরুন মিশ্রর উপর রায় দেওয়ার ভার দেন। যদিও প্রধান বিচারপতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে জানান। আরও বলেন, এর পিছনে রয়েছে এক বড় শক্তি। তারাই প্রধান বিচারপতির দফতরকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে চাই। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন এক সময়ে অভিযোগ আনা হয়েছে যখন আগামী এক সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি
হওয়ার কথা। বিষয়টি অনেকদূর গড়িয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তাই কোনও ভয়ডর ছাড়াই বিচারকাজ চালিয়ে যাবেন এবং এই চেয়ারেই বসবেন। কারণ, বিচারব্যবস্থাকে কোনওভাবেই বলির পাঁঠা করতে দেওয়া যাবে না।

তাঁর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই, অথচ কিছু মানুষ তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আর এই অভিযোগটাই তারা খুঁজে পেয়েছে বলে উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০ বছর পর আত্মনিবেদিত একজন বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৬.৮০ লক্ষ টাকা। এর থেকে তাঁর পিয়নের কাছে বেশি টাকা আছে। ২০ বছর পর প্রধান বিচারপতি হিসেবে এটাই কি তাঁর পুরুষ্কার- তাঁর জিজ্ঞাসা। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগকারীনিকে নিয়ে। তিনি বলেন, যে মহিলা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। দুটি পুলিশ কেস রয়েছে তাঁর নামে। তাই এ প্রসঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেছেন, দেখেশুনে মনে হচ্ছে এটা একটি অভিযোগ জানানোর কৌশল। তাই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার গঠিত বেঞ্চ পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনও রায় দেওয়া থেকে বিরত থাকে। তবে, সংবাদমাধ্যমের প্রতি তিনি আহব্বান জানান তারা যেন বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। তবে, বিচারপতির বিরুদ্ধে কিছু নির্লজ্জের অভিযোগ বিচারব্যবস্থার প্রতি অটুট আস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। শীর্ষ আদালত এ বিষয়ে পরবর্তীতে রায় দেবে বলে জানান তিনি।