টিডিএন বাংলা ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এর ফলে শূন্যতা সৃষ্ট হবে তা পূরণে এবং দেশটির শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিতে চায় আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে নতুন এই কৌশলের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি ভারত, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নামও উল্লেখ করেন। আফগানিস্তান থেকে আংশিক মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সেখানে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানায়, আইনপ্রণেতাদের সাথে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি এই ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে বের হয়ে আসতে চান এবং এক্ষেত্রে তাদের সমর্থন কামনা করেন।

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, এই সপ্তাহে তিনিও সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেেেরেছন। কিন্তু তিনি ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষপাতী। ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টার জানায়, ২০১৮ সালের শেষপর্যায়ে এসে আফগানিস্তান যুদ্ধটি মার্কিন জনগণের কাছে খুবই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ৪৯ শতাংশ মার্কিনি বিশ্বাস করে যে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। ৩৫ শতাংশ মনে করে তারা সেখানে সফল হয়েছে। অন্য ১৬ শতাংশ এখনো নিশ্চিত নয়, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়েছে, না ব্যর্থ।

মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন বলেছিলেন, তিনি শিগগিরই আফগানিস্তানে থাকা ১৪ হাজার সেনার অর্ধেককে ফেরত নিয়ে আসবেন। তিনি সে সময় এলে একটি জনমত অনুসারেই এ কথা বলেছিলেন। তার এ বক্তব্যের পর বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক কেবল ট্রাম্পের সে বক্তব্যকেই সমর্থন করেননি, বরং তারা সেই শূন্যতা পূরণে কাবুলের প্রতিবেশী দেশগুলোকে দায়িত্ব দেয়ার ব্যাপারে মত দেন। তারা এক্ষেত্রে ইরান ও চীনকেও যুক্ত করার পরামর্শ দেন। ট্রাম্পও পরবর্তী সময়ে একই ধরনের মত দেন। তবে তিনি এক্ষেত্রে ভারত, পাকিস্তান ও রাশিয়ার কথা উল্লেখ করে, চীন ও ইরানের কথা বাদ দিয়ে দেন। তিনি বলেন, রাশিয়া সেখানে নেই কেন, ভারত নেই কেন, পাকিস্তান নেই কেন? ছয় হাজার মাইল দূরের আমরাই বা সেখানে কেন? ট্রাম্পের মতে, আফগানিস্তানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্যায্য আচরণ করেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে গত ১৭ বছরে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। তিনি বলেন, আমি চাই অন্যরা আমাদের সাথে ন্যায্য আচরণ করবে। অথচ যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ হাজার সেনা রয়েছে, সেখানে অন্যদের মাত্র এক শ’ বা দুই শ’ করে সেনা অবস্থান করছে।