টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বাচ্চাদের কাছে পেলে আদর করতে ইচ্ছে করে না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। কোলে নিতে না পারলেও অন্তত গালে-মাথায় হাত বুলিয়ে একটু হলেও আদর করার বাসনা জাগে। এমনকি অপরিচিত শিশুকেও মুচকি হাসি দিয়ে ছুঁয়ে দেখেন অনেকেই।

বিজ্ঞানীরা তো বলছেন, কোনো নবজাতককে আদর করার সময় নারীদের মনে তাকে খেয়ে ফেলার পর্যন্ত ইচ্ছা জাগে! কিন্তু এর বিপরীতে শিশুর প্রতি যে নিমর্ম আচরণ অনেকেই করে থাকেন, তা অস্বীকার করার জো নেই।

সম্প্রতি দেশেই ঘটে গেছে এরকম হৃদয় বিদারক ঘটনা। বছর চারেকের এক শিশুকে তার মা মারধর করতে করতে পড়াতে থাকেন। অথচ সেই শিশু কান্নাজড়িত কণ্ঠে মায়ের কাছে হাত জোড় করে বার বার অনুরোধ করছে, আপ পেয়ারসে পড়াইয়ে।

গলা বুজে আসছে শিশুটির। দু’চোখ ফেটে জল গড়িয়ে পড়ছে। তারপরেও কচি হাতে পেনসিল ধরে মায়ের ভয়ে সঠিক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছে সে।

খোপ খোপ করে টানা খাতায় ১, ২, ৩, ৪, ৫ … লেখা। তার মা কর্কশ গলায় বলছেন, ওয়ান কাঁহা হ্যায়? টু কাঁহা হ্যায়? আর শিশুটি আঙুল বুলিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

একটু থামতেই তার মায়ের আবার গর্জন, থ্রি কাঁহা হ্যায়? ওয়ান কাঁহা হ্যায়? শিশুটি এবার দু’হাতে খামচে ধরেছে নিজের মাথা। মনে হয় খুব যন্ত্রণা হচ্ছে তার। সে বলছে, এই তো দেখালাম ওয়ান!

মোবাইলে ধারণ করা ওই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি শনিবার ভিডিওটা শেয়ার করেন। পরে শিখর ধাওয়ানও সেই ভিডিওটা শেয়ার করেন।

অধিনায়ক বিরাট ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, মায়া-দয়া বলে কিছু নেই? বাচ্চাটার রাগ-যন্ত্রণা, কিছুরই তোয়াক্কা না করে একজন নিজের ইগোর বশে তাকে শিখতে বাধ্য করছে। জোর করলে বাচ্চা কিছুই শেখে না।

অার শিখর লিখেছেন, এত অসহ্য ভিডিও আগে দেখিনি। বাবা-মা হওয়াটা বিরাট দায়িত্ব। বাচ্চারা যা হতে চায়, সে ভাবেই তাদের গড়ে তুলব আমরা।

ভিডিওটির শেষের দিকে দেখা যাচ্ছে, ‘ওয়ান-টু’ আওড়াতে আওড়াতে হতবুদ্ধির মত হয়ে আসছে ওই শিশু। কখনও বলছে ‘থ্রি’, কখনও ‘ফাইভ’। ঝাঁঝিয়ে উঠছেন তার মা, এটা কী? এবার বিরক্ত হয়ে শিশুটি বলে ফেলছে, আরে কুছ ভি নেহি। তার পরেই গালে পড়ছে সপাটে চড়।

ভিডিওটি শেয়ারের পর তা ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলছেন, মারধর করে কোনো লাভ হয় না। ভয় পেলে শিশু কিছুই শিখতে পারবে না।

হিন্দু স্কুলের প্রধান শিক্ষক তুষারকান্তি সামন্তও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাচ্চাদের আনন্দ করে শেখার বয়স এটা। মনোবিদ প্রদীপ সাহা বলেন, সবচেয়ে জরুরি হল, সন্তানকে মানুষ করার কৌশল। সেটা সঠিক পদ্ধতিতে না হলে ৬০ শতাংশ শিশু মানসিক রোগীতে পরিণত হয়।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, শিক্ষা যদি নাও হয়, খাঁচা তো হইল। ‘পাখির’ কপালে কী আছে, তা কে জানে!