টিডিএন বাংলা ডেস্ক: শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে স্রেফ অনাহারেই মারা গেলেন একজন শ্রমিক। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার উত্তরপ্রদেশের যােগী সরকারের অত্যন্ত নির্দয় আচরণ , সমন্বয়হীনতার ফলে যােখান যাদব নামে এক নির্মাণ শ্রমিক ক্ষুধা , তৃষ্ণায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। উত্তর প্রদেশের জৌনপুর জেলার বাসিন্দা যোখান যানব তার ভাইপাে রভিশ যাদবকে নিয়ে মুম্বাই এর লােকমান টার্মিনাল থেকে ২০ মে সন্ধ্যা ৭ টায় শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে উঠেন। মাথাপিছু ১৯৪০ টাকা দিয়ে তারা টিকিট সংগ্রহ করেন। তারা শুনেছিলেন ট্রেন ভাড়া লাগবে না। রেলওয়ে শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের প্যাকেট ও পানীয় জল সরবরাহ করবে বলে জোর প্রচার হচ্ছে। কিন্তু কিছুই জোটেনি যেখান যাদবসহ তাদের কামরার কোনাে যাত্রীরই। মােদি সরকারের বুলি, প্রতিশ্রতি যে নিছক জুমলা তাই প্রমাণ হল এই শ্রমিকের মৃত্যুতে।

২৩ মে সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে এসে পৌঁছায়। কিন্তু তার আধঘন্টা আগে যেখান যাদব ক্ষুধা তৃষ্ণা সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যান। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কামরার সহযাত্রীদের চোখের সামনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রভিশ যাদব জানান , রেলওয়ে যাত্রীদের খাবার ও পানীয় জল দেবে একথা জেনে আমরা ওসব সংগ্রহ করিনি। কিন্তু ট্রেনে এক ফোটা জলও ছিল না।

তিনি জানান , ট্রেনের টিকিট কাটার পরও কিছু টাকা ছিল। মুম্বাই ছাড়ার পর মধ্যপ্রদেশের কাটনিতে ১৮ ঘণ্টা বাদে ট্রেন দাঁড়ায়। সেখানে তিন ঘণ্টা ছিল। কিন্তু খাবার , জল কিছুই পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় যেখান যানব জিআরপি জওয়ান ও রেল কর্মীদের কাছে কিছু খাবার ও জলের ব্যবস্থা করার জন্য
কাতর আবেদন নিবেদন করেন। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন ওই নির্মাণ শ্রমিক। ট্রেনটি শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ কাশী রেলস্টেশনে এসে দাঁড়ায়। সেখান থেকে জৌনপুর স্টেশন মাত্র ৪০ কিমি। অথচ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জৌনপুর জেলা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা আটকে থাকে ট্রেনটি।

জৌনপুর জেলা প্রশাসন ট্রেনটি গ্রহণ করতে অসম্মতি জানায়। অথচ রেল কর্তৃপক্ষের দাবি ২ দিন আগে জানিয়েছি। বারাণসীর রেলওয়ের অতিরিক্ত ডিভিশনাল ম্যানেজার রবিপ্রকাশ চতুর্বেদী বলেন, ট্রেনে শ্রমিকদের খাবার ও জল দেওয়া হয়নি এমন অভিযােগ ঠিক নয়। মৃত শ্রমিকটি হৃদরােগী ছিলেন। রভিশ যাদব বলেন , আমার কাকা হৃদরােগী ছিলেন এটা ঠিক। কিন্তু তিনি ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় অভুক্ত ছিলেন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি মারা যান। (সৌজন্য- ডেইলি দেশের কথা)