টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ব‍্যপক অবনতি ঘটেছে। এমনকি দ্বিপাক্ষিক বানিজ্যিক সম্পর্কও বন্ধ হয়েগেছে‌। ৩৭০ ধারা বাতিলের চরম বিরোধিতা করে এককভাবে পাকিস্তান সমঝৌতা এক্সপ্রেস পরাসেবাও বন্ধ করে দিয়েছে। এবার পাকিস্তানের পরে পরেই পাকিস্তানের দেখানো পথে হাঁটতে শুরু করল চীনও। পাকিস্তান ইস‍্যুতে সরব হয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ হয়েছে চীনও। কাশ্মীরের ব‍্যপারে চীন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আবেদন জানাল ‘রুদ্ধদ্বার আলোচনা’র। রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক শীর্ষ কূটনীতিক একথা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে রাজ্যের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’ তুলে নিয়ে তাকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার বিল পাস হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ অগস্ট মাসের সভাপতি পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত জোনানা রনেকাকে চিঠি লিখেছে পাকিস্তান। এবার চীনও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আবেদন জানাল কাশ্মীরের ব্যাপারে ‘রুদ্ধদ্বার আলোচনা’র। রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক শীর্ষ কূটনীতিক একথা জানিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা ওই কূটনীতিক জানিয়েছেন, এমন একটি বৈঠকের অনুরোধ জমা পড়েছে। তবে এখনও কোনও তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘চীন ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ নিয়ে প্রতিরক্ষা কাউন্সিলে গোপন আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই অনুরোধ পাকিস্তানের কাউন্সিলকে লেখা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই করা হয়েছে।”

সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের কাশ্মীর নিয়ে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছে।

তবে চীন বা পাকিস্তানের অনুরোধের পরেও পোল্যান্ড কোন‌ও সিদ্ধান্ত নেয়নি এখনও। কাউন্সিলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই তিনি এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ওই কূটনীতিক জানিয়েছেন। তবে শুক্রবার সকালে ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের একটা সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বেজিংয়ে গিয়ে চীনের নেতৃত্বের সঙ্গে এব্যাপারে আলোচনা করেন। দাবি জানান, রাষ্ট্রসঙ্ঘে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপনের।

কুরেশিকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই জানান, তিনি বিশ্বাস করেন যে চীন কাশ্মীর ইস্যুতে ন্যায়ের পক্ষে থাকবে। সোমবার বেজিংয়ে তাঁর সঙ্গে কুরেশির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়।

এরপরই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়ে দেন, জম্মু ও কাশ্মীরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’ তুলে নেওয়া ভারতে অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘এতে সীমান্তরেখায় কোনও প্রভাব পড়বে না। ভারত ও পাকিস্তানেক সম্পর্ক নিয়ে বিবেচনার ক্ষেত্রে চিনকে বাস্তবটা বিচার করতে হবে।” ভারত যে সব সময় সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে দু’দেশের সম্পর্কের স্বাভাবিকতার পক্ষে। পাকিস্তানের প্ররোচনা সত্ত্বেও ভারত ধৈর্য দেখিয়েছে।

৫ আগস্ট ভারত জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত ঘোষণাটি করার পরেই পাকিস্তান জানিয়েছিল তারা নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের কথা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে জানাবে।

ভারত তখনই জানিয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত একেবারেই দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। পাশাপাশি পাকিস্তানকে বলা হয় বাস্তবটাকে মেনে নিতে।