টিডিএন বাংলা ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বুলন্ডশরের ঘটনায় এবার সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে দায়ী করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যোগী সরকারের অপসাশন থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি করলেন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। পাশাপাশি তিনি

ভারতবর্ষের অন্যতম রাজ্য উত্তর প্রদেশকে যোগী সরকার একটি পশু কেন্দ্রতে রূপান্তরিত করে  জঙ্গল রাজ চালিয়ে গরুকে নিরাপদ ও মানুষকে পিটিয়ে হত্যার নিশানা বানানো হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আজ বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন , সঙ্ঘ পরিবারের লোকদের দ্বারা সৃষ্ট উত্তেজনা এবং বিশিষ্ট পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিং ও সুমত নামক যুবকের হত্যার জন্য দায়ী হলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। সেখানে যা ঘটেছে সেটা স্বতন্ত্র কোন ঘটনা নয়, বরং সেটা হল গো-সন্ত্রাসীদের কুকর্মের ধারাবাহিকতার সম্প্রতিক রূপ যেটা যোগী আদিত্য নাথ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিদিনের ঘটনাতে পরিণত হয়েছে। যোগীর দ্বারা প্রতিষ্টিত হিন্দু যুব বাহিনীর এইটা প্রথম ঘটনা নয়, বরং তারা গো- রক্ষার নামে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে সবসময় সামনের কাতারে আছে। ভারতের  অন্যতম রাজ্য উত্তর প্রদেশকে তিনি একটি পশু কেন্দ্রতে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন ,যেখানে চলছে জঙ্গল রাজ ।যেখানে গরুকে নিরাপদে রাখা হলেও মানুষকে পিটিয়ে হত্যার নিশানা বানানো হচ্ছে।  তিনি বলেন, সঙ্ঘ পরিবারের মদদ পুষ্ট গো-সন্ত্রাসীরা দেশে এমন এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যে, কোন মুসলিম বা দলিতকে গরুর ব্যবসা বা গো-মাংস ভক্ষণের অভিযোগে হত্যা করতে পারে। সুবোধ কুমারের পরিবার সূত্র ধরে তিনি জানান, সুবোধের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে কারণ, তিনি আখলাককে পিটিয়ে হত্যার তদন্ত করছিলেন। গো-সন্ত্রাসীদের দ্বারা সুবোধকে হত্যা করার এই নতুন ঘটনা এই বার্তা দিচ্ছে যে, যে সকল পুলিশ অফিসার পিটিয়ে হত্যার তদন্ত করবে তাদেরকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না। বুলন্দ শহরের ঘটনার পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বিবৃতি থেকে জানা যাচ্ছে যে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে, আখের ক্ষেতে গরুর কঙ্কাল ঝুলিয়ে রাখার পিছনে সঙ্ঘ পরিবারের হাত রয়েছে। ওই অঞ্চলে মুসলিমদের সভাকে বাতিল করার গোপন অভিসন্ধিরও তদন্ত হওয়া উচিৎ বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, এই ঘটনার পিছনে লুকিয়ে থাকা চক্রান্তকে জনসমক্ষে নিয়ে আসার জন্য কর্মরত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত তদন্ত টিমের দ্বারা ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও  উত্তর প্রদেশ রাজ্যকে যোগীর অপশাসন থেকে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের দাবি করেন।