টিডিএন বাংলা ডেস্ক : লোকসভা ভোটের আগে ‘মন্দির রাজনীতি’র প্রত্যাবর্তনের ফলে এমনিতেই উত্তাপ চড়ছে। তারই মধ্যে আজ বাবরি সৌধ ধ্বংসের ২৬তম বর্ষপূর্তির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে অযোধ্যাকে। পুলিস ও প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে গেরুয়া বাহিনী ও মুসলিম সংগঠনগুলির বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা। একদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের তরফে বাবরি ধ্বংসের বর্ষপূর্তির দিন ‘শৌর্য দিবস’ ও ‘বিজয় দিবসে’র আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম সংগঠনগুলি ‘শোক দিবস’ ও ‘কালা দিবস’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ও অযাচিত ঘটনা এড়াতে গলি থেকে রাজপথ, সর্বত্রই দখল নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। চলছে কড়া নজরদারি।

অযোধ্যায় দুই শিবিরের তরফেই বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক নতুন কিছু নয়। তবে লোকসভা ভোটের আবহে গত ২৫ নভেম্বর রামমন্দির ইস্যুতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজিত ‘ধর্মসভা’কে কেন্দ্র করে এবার উত্তাপের পারদ একটু বেশিই চড়া। তারই মধ্যে আজ বাবরি ধ্বংসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই শিবিরের কর্মসূচির ডাক প্রশাসনের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে আড়াই হাজারেরও বেশি পুলিসকর্মী। তার সঙ্গেই মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাফ ও সিআরপিএফ। বিতর্কিত জমি, হনুমানগড়ি এলাকা সহ আযোধ্যার সর্বত্র বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফৈজাবাদের (নগর) পুলিস সুপার অনিল সিং বলেন, জোড়া শহর ফৈজাবাদ-অযোধ্যায় বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছি আমরা। রাস্তা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পুলিসের পাশাপাশি র‍্যাফ ও সিআরপিএফ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন হোটেল ও ধর্মশালায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। তল্লাশি চালানো হচ্ছে গাড়িতেও। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। দুই সম্প্রদায়ের তরফে যে কর্মসূচিগুলি প্রতি বছর পালন করা হয়, একমাত্র সেগুলির জন্যই আমরা অনুমতি দিয়েছি। তবে নিরাপত্তার এই কড়াকড়ির মধ্যেই অযোধ্যায় জনজীবন ও ব্যবসায়িক কাজকর্ম স্বাভাবিক রয়েছে। হনুমানগড়ি এলাকায় তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা বজায় রয়েছে। অধিকাংশ দোকানপাটও খোলা রয়েছে।

সূত্র : বর্তমান