টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রক্তপাত। কাশ্মীরের ঘুম ভাঙে ভারী বুটের শব্দে। জঙ্গিহানা, বিস্ফোরণ-গোলা-গুলির শব্দে ভূস্বর্গের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারপরেও দেশসেবার তাগিদ এখানকার যুবকদের মধ্যে। পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা, বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রাইক, উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটক পাকিস্তানের, সীমান্তে ক্রমাগত গোলাগুলিবর্ষণ- কোনও ঘটনাতেই মনোবলে বিন্দুমাত্র চির ধরেনি উপত্যকার যুবকদের। তাঁরা যে দেশের জন্য প্রাণ দিতে চান, তার প্রমাণ পাওয়া গেল, শনিবার সেনাবাহিনীর নিয়োগ ক্যাম্পে। টেরিটোরিয়াল আর্মির বিভিন্ন শূন্যপদে যোগ দিতে ডোডা স্পোর্টস স্টেডিয়ামের বাইরে লাইন দিলেন প্রায় ২ হাজার যুবক।

‘পরিবারের পাশাপাশি দেশের সেবা করতে চাই।’ জানালেন লাইনে দাঁড়ানো স্থানীয় যুবক মুবাসির আলি। ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানই অনুপ্রেরণা বলে জানান তিনি। কাশ্মীরের বাসিন্দারা পুলওয়ামা হামলার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এরপরেও তাঁরাই বেশি করে এগিয়ে আসছেন দেশসেবায়।

ভারতীয় সেনার কর্পস কম্যান্ডার কে জে সিং ধিলোঁ এদিন বলেন, ‘কাশ্মীরি মায়েদের কাছে আর্জি, সন্তানদের ভুলপথে যাওয়া থেকে আটকান। যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদেরও ফিরিয়ে আনুন। আমরা নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছি।’
দীর্ঘ সময় ধরেই বেকার সমস্যায় জর্জরিত জম্মু ও কাশ্মীর। গোটা দেশের চেয়ে বেকারত্বের হার বেশি এই রাজ্যে। কারণ এখানে জনজীবন বিপন্ন। কিন্তু তার মধ্যেই কাশ্মীরি যুবকরা সেনায় যোগ দিতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে গোটা দেশের কাছে অন্যরকম বার্তা দিলেন।