টিডিএন বাংলা ডেস্ক: তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ শহরে চারিদিকে যখন ইফতারের মজলিশ হচ্ছে তখন দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেলে বন্দীদের ইফতারের আয়োজন করছে। এই পরিষেবা তারা প্রায় দুদশক ধরে করে আসছে। হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দাওয়াত-উল-ইসলাম ও দাওয়াত-ই-ইসলামী। রমজান এলেই তাদের সবাই ঠিকানা হয়ে ওঠে বিভিন্ন কারাগার। কারাগারের প্রতিটি কয়েদিকে তারা ইফতার সামগ্রী দান করে। বিভিন্ন কারাগারে প্রতিবছর প্রায় ৭০০ বন্দি রোজা রাখেন। জামাত-উল-ইসলাম প্রায় ২৬ বছর ধরে প্রতি জেলের পুরুষ, মহিলা, শিশু প্রত্যেকেই ইফতার সামগ্রী প্রদান করে আসছে। জামাত-ই-ইসলামী সংস্থাও প্রায় ১৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে।

চেরলাপল্লী জেলে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোজা রাখেন। জামাত-ই-ইসলামী এর এক সদস্য সৈয়দ নাজির বলেন, ২০০৪ সাল থেকে আমাদের সংগঠন চঞ্চলগুড়া জেলে ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করে আসছে। তবে কয়েক বছর আগে জেলে বন্দীদের ইফতার সামগ্রী সরাসরি সরবরাহ করা হত। কিন্তু এখন বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করে। বন্দীদের আর সরাসরি ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হয়না। জেলের সুপারের হাত দিয়েই তাদের ইফতার সামগ্রী দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে কারাগারের জেনারেল ভিকে সিং বলেন, নিরাপত্তার কারনে আইনে বিধান দেওয়া হয়েছে। তারা ধর্মীয় বক্তব্য দিলে বাইরে থেকে অন্য সম্প্রদায় বিক্ষোভ দেখাতে পারে। তাই ধর্মীয় গোড়ামী এড়াতে এই বিধি আরোপ করেছে। ভিকে সিং আরও বলেন, সেচ্ছাসেবীর দেওয়া ইফতার সামগ্রী যথা সময়ে কয়েদিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিকেল থেকেই তারা ইফতারের প্রস্তুতি নেয়। তবে, ধর্মীয় বক্ততায় লাগাম টানলেও কয়েদিদের এক সঙ্গে রমজান পালন করা ধর্ম বিধি পালন করা তারা বন্ধ করতে পারবেন বলে দাবি করেন ভিকে সিং।