টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মার্কিন গরু আমিষ খায়, গোমাতাকে হতে হবে খাঁটি নিরামিষাশী। তবেই গোদুগ্ধ পবিত্র থাকবে। তাই তাদের দুধ ভারতে আমদানি করা যাবেনা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের আগে এবার এমনটাই দাবি জানাল হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ আরএসএস।

আমিষ-নিরামিষ দুধের এই বিবাদেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের গরুর দুধ এ দেশে ঢোকার ছাড়পত্র পাচ্ছে না। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় আরএসএস আপত্তির মুখে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা দু’দেশের বাণিজ্য চুক্তি ।

আরএসএসের দাবি, হিন্দুদের কাছে গরুর দুধ নিরামিষ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে গরুকে অন্য প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, রক্ত-মাংস খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করে তোলা হয়। আরএসএসের যুক্তি, গরু আমিষ খেলে তার দুধও আমিষ হয়ে যায়। ওই আমিষ দুধ পূজা বা যজ্ঞে আর ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া নিরামিষভোজী হিন্দুরাও ওই দুধ পান করতে পারবেন না। একারণে মোদি সরকারের কাছে আরএসএসের জোর দাবি, কোনওভাবেই দেশে আমিষ দুধ বা এ থেকে তৈরি অন্যান্য ডেইরি পণ্য ঢুকতে দেয়া যাবে না।

আমেরিকা অনেক দিন ধরেই চাইছে, তাদের দুধ ও ডেয়ারি পণ্যের জন্য ভারত তার বাজার খুলে দিক। কিন্তু মোদী সরকার আমিষাশী গরু নিয়ে আপত্তি তোলায় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মোদী সরকারের বাণিজ্য চুক্তি হবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন। এ দিকে ‘ফার্স্ট লেডি’ মেলানিয়াকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতে আসার আর মাত্র দশ দিন বাকি। এখনও আমিষ-নিরামিষ গরুর দুধের বিবাদ মেটেনি।

সঙ্ঘের স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের যুগ্ম-আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন বলেন, আমেরিকাকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে, এ দেশে যে সব গরুর দুধ পাঠানো হবে, তাদের শুধু নিরামিষ খাবারই খাওয়ানো হয়। অশ্বিনী আরও বলেন, আমেরিকা চাইছে ভারত এই শর্ত তুলে নিক। কিন্তু আমেরিকাকে বুঝতে হবে, ওদের এই দাবি শুধু অন্যায্য নয়। ধর্মীয় কারণে এই দাবি মেনে নেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, গরুর দুধ ছাড়াও বিবাদ বেঁধেছে ‘মুরগির ঠ্যাং’ নিয়েও। ভারত আমেরিকা থেকে মুরগির ‘লেগ পিস’ আমদানি করে ঠিকই। কিন্তু ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে। ট্রাম্প চান, ওই শুল্ক কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হোক। কিন্তু এতেও আপত্তি আছে আরএসএসের। ফলে ট্রাম্পের ‘অনেক সাধের’ ভারত সফরে আশানুরূপ বাণিজ্য চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।