টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জমিতে ভালো ফলন না হওয়ায় ছোটখাটো ব‍্যবসায় বার বার লস বহন করে ঋণের দায়ে জর্জরিত এক কৃষক। ব‍্যাঙ্কে কৃষক ঋণের জন্য একাধিকবার আবেদন করলেন কোনো কাজ হয়নি। মেলেনি কোনো সরকারি সাহায্যও শেষমেশ ঋণ থেকে মুক্তি পেতে নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেন এক গরীব অসহায় কৃষক। এমনকি কিডনি বিক্রির জন্য গ্ৰামের অলিতে গলিতে বিজ্ঞাপন পোস্টারও লাগিয়েছে তিনি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার ছত্তর সালি গ্রামে।

উল্লেখ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ঋণের দেওয়ার কথাও বলেছে কেন্দ্র। কিন্তু, সেসব যে শুধুই কথার কথা তা ফের প্রমাণ হল উত্তরপ্রদেশের কৃষক রাম কুমারের জীবনে। নীরব মোদি থেকে মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়া থেকে সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া কমল নাথের ভাগনে রাতুল পুরি। বড় বড় শিল্পপতি ঋণ না মিটিয়ে দেশ ছেড়ে পালালেও আরও নতুন নতুন শিল্পপতি ঋণ পান। কিন্তু, সরকারি প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার ছত্তর সালি গ্রামের রাম কুমার। বাধ্য হয়ে ধার মেটানোর জন্য নিজের কিডনি বিক্রি করার চেষ্টা করছেন তিনি। এর জন্য পোস্টার ছাপিয়ে গ্রামের বিভিন্ন জায়গাতেও লাগিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্তর সালি গ্রামের ৩০ বছরের যুবক রাম কুমার চাষাবাদের পাশাপাশি পশুপালনেও আগ্রহী ছিলেন। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার অধীনে ডেয়ারি ফার্ম সংক্রান্ত একটি কোর্সও করেন। কিন্তু, প্রশিক্ষণ শেষের পরে ডেয়ারি ফার্ম খুলতে গিয়েই সমস্যায় পড়েন তিনি। প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য এলাকার সমস্ত সরকারি ব্যাংকে আবেদন জমা করলেও কেউ পাত্তা দেয়নি। সবাইকে প্রধানমন্ত্রী কৌশল
বিকাশ যোজনার অধীনে নেওয়া প্রশিক্ষণের শংসাপত্র দেখালেও লাভ হয়নি। এদিকে পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য ছোটখাটো একটি ডেয়ারি ফার্মও খুলে ফেলেছিলেন তিনি। কয়েকটা গরু কিনেছিলেন। আর তাদের রাখার জন্য বানিয়ে ছিলেন একটি ঘর। এর জন্য ধার নিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠ কিছু আত্মীয়দের কাছ থেকে। আশ্বাস দিয়েছিলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার পরেই তাঁদের টাকা মিটিয়ে দেবেন বলে।

কিন্তু, কোনও ব্যাংক ঋণ দিতে রাজি না হওয়ায় সমস্যা বাড়ে। কিছুদিন অপেক্ষা করার পর বাড়িতে চড়াও হন আত্মীয়রাও। ধার নেওয়া টাকা শোধ করার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে রাম কুমারের উপর। এর ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। টাকা জোগাড়ের কোনও উপায় না দেখে সিদ্ধান্ত নেন নিজের কি়ডনি বিক্রি করে ধার শোধ করবেন। কিন্তু, কীভাবে বিক্রি করবেন তার কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত পোস্টার ছাপিয়ে স্থানীয় এলাকায় লাগিয়ে কিডনি বিক্রির চেষ্টা করলেন তিনি।

এপ্রসঙ্গে সাহারানপুর ডিভিশনাল কমিশনার সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘এই সম্পর্কে কিছুই জানতাম না আমি। সংবাদমাধ্যম সূত্রেই পুরো বিষয়টা জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তারপর বলতে পারব রাম কুমারকে ব্যাংক কেন ঋণ দেয়নি।’