টিডিএনবাংলা ডেস্ক: ফের আরও একবার খবরের শিরোনামে যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ। দেশের মধ্যে মিড ডে মিলে দুর্নীতিতে শীর্ষে স্থান রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। গত সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশে মিড ডে মিলে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। মির্জাপুর জেলার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মিডডেমিলের বদলে নুন রুটি খাওয়ানোর ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে দেখা গিয়েছিল। যার ফলে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের নুন রুটি খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল করার অপরাধে পবন জয়সওয়াল নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল যোগী প্রশাসন।

সম্প্রতি যে খবর এবার সামনে এলো তা আরও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল যোগীর সরকারের। কারণ লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্তরপ্রদেশে মিড ডে মিলের দুর্নীতি উঠে এল সরকারের নথিতেই। কী লেখা আছে সেই নথিতে?‌ মিড ডে মিলের দুর্নীতি নিয়ে তথ্য দিতে হয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ পোখরিয়ালকে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে কেন্দ্রীয় সরকার ৫২টি মিড ডে মিলে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। মোট ১৪টি মিড ডে মিলের দুর্নীতি রয়েছে সেখান থেকে। তারপর রয়েছে বিহার সাতটি। অর্থাৎ দুটি রাজ্যই এখন বিজেপি শাসিত বলা যায়। বিহারে জোট সরকার আর উত্তরপ্রদেশে যোগীর সরকার। এই দুই রাজ্যই দুর্নীতিতে রয়েছে। তাও আবার মিড ডে মিলে। এমনকী বেশ কয়েকটি দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে লোকসভায় জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই তথ্য পেশ করার পর স্বাভাবিকভাবেই যোগীর সরকারের অস্বস্তি বেড়েছে। শুধু তাই নয়, মোট ৯৩১টি শিশু অসু্স্থ হয়ে পড়েছে এই মিড ডে মিল খেয়ে। ফলে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, শিশুশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিড–ডে মিল প্রকল্পের হাল দেখলেই শিশুদের সম্পর্কে তথা সাধারণ মানুষের সম্পর্কে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী তা পরিষ্কার হয়ে যায়৷ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, মিড–ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ছে৷ এতদিন বরাদ্দ ছিল প্রতি মিলের জন্য প্রাথমিকে ৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ৬ টাকা ৫১ পয়সা৷ তার মধ্যে চাল ডাল, সবজি, ডিম, তেল, নুন, মশলা, গ্যাসের খরচ, রাঁধুনির বেতন সবই ধরা আছে৷ যখন, দেশে ছোট এক ভাঁড় চা পাঁচ টাকার নিচে মেলে না, সেখানে এই টাকায় বাড়ন্ত বাচ্চাদের একবেলার প্রধান আহার কী করে হতে পারে?‌ পরিবর্তে সরকার কী পরিমাণে বাড়াল? প্রাথমিকের শিশুদের জন্য জনপ্রতি ১৩ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে জনপ্রতি ২০ পয়সা৷ এত বরাদ্দে শিশুদের পুষ্টি–বৃদ্ধি না হয়ে উপায় আছে!