টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বাংলার ধারাবাহিক ‘ভানু পেল লটারির’ রানুর মতো কী ভাগ্য খুলতে চলেছে রানাঘাটের রানুর ? ওই রানুর মতো রানাঘাটের রানুও ক্যারামের গুটির মতো চারিদিকে ধাক্কা খেয়ে এবার ‘গর্তে’ পড়তে চলেছে।

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে মোটরবাইক থামিয়ে কেউ বলছে, কেমন আছো! আবার কেউ বলছে সব শুনছি, কবে বাইরে যাচ্ছ। এমনকী এদিন তাঁর বরাদ্দ হয়েছে মটন বিরিয়ানি এবং চিকেন চাপ। এলাকার এক যুবক এটা তার হাতে তুলে দিয়ে বলেছে, এটা খেয়ে নিও।

গত কয়েকদিন ধরে তার গাওয়া গান সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে, তাঁকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করেছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের রিয়েলিটি শোয়ের কর্মকর্তারা। বাংলা ছাড়িয়ে এখন খোদ রাজধানী দিল্লি থেকেও তার ডাক পড়ছে। সকাল থেকে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাঁর সাথে কথা বলছেন। তাঁর গলায় গান শুনছেন। তার গলার উপরে বেশ চাপ পড়ছে। মাঝে মাঝে কথা বলে কষ্ট হচ্ছে।

ব্যাকরণ মেনে কোনও দিনও গান শেখেননি। তাই তাঁর কোনও গানের শুরুও নেই। অতীতের সেই রেডিয়োও ও টেপ রেকর্ডার থেকে তাঁর গান শেখা। পছন্দের প্রথম তালিকায় লতা মঙ্গেশকারের নাম থাকলেও আলোকা ইয়াগনিক , মুহাম্মদ রফি সহ বিভিন্ন শিল্পীর বেশ কিছু গান তাঁর মগজে রয়েছে। বাংলা এবং হিন্দি সবধরনের গান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। গলার সুমধুর কণ্ঠস্বরে গান গুলো একটা মাত্রা পেয়ে যায়।

কয়েকদিন রানাঘাট রেল স্টেশনের একটি ঘটনা প্রচারের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। সেদিন আপন মনে গান করে ছিলেন তিনি। গান শুনে পথচলিত এক সঙ্গীতপ্রেমী তাঁর গান রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই গান লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গান শুনে বাহবা দেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। টিডিএন বাংলাতেও এসেছে সেই ভিডিও।

রানাঘাট থানার বেগ পাড়ায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে খানিকটা দূরে চাষের জমির পাশে তাঁর বাড়ি। বাড়ি বলতে একতলা পাকা ছাদ দেওয়া দু’টি ইটের ঘর ও বারান্দা। সংরক্ষরেন অভাবে জীর্ণ ভাবটা ফুটে উঠেছে।
ঘরটা যেন তাঁর ভালো লাগে না। তাই সুযোগ পেলে হাঁটতে হাঁটতে ডের কিলোমিটার দূরে রানাঘাট রেল স্টেশনে চলে যান। সেখানে তাঁর অবাধ বিচরণ। ফাঁকা প্লাটফর্মে তাঁর সঙ্গী গান। গান গাওয়ার সময় অনেকেই তাঁর পাশ দিয়ে চলে যান। কেউ তাঁর গান শুনে দাঁড়িয়ে যান। আবার কেউ তাড়া আছে বলে বেরিয়ে যায়। যাঁরা তাঁর গান মন দিয়ে শোনেন ,তাঁরা গলার গুরুত্ব বোঝেন।

রানাঘাট রেল স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মের সংবাদপত্র বিক্রেতা মানিক লাল আচার্য বলেন, শুধু গান গাওয়া নয়, খবরের কাগজ পড়ার প্রতিও তাঁর আগ্রহ আছে। মাঝে মাঝে বাংলা কাগজ কিনে নিয়ে যান। আবার এসে বলেন, টাকা দাও কিনে খাব। কারোর সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করেন না। ওর গলার সুর খুব ভালো। আমি নিজে শুনেছি এবং অনেকে প্রশংসা করতে শুনেছি। (সৌজন্যে:পুবের কলম)