টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সুপ্রিম গুজারট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে তাঁকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। এর পরের দিনই বিলকিস বানো জানালেন, এই টাকার একটা অংশে তিনি অন্যান্য ধর্ষিতা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার মহিলাদের সাহায্যে তহবিল তৈরি করতে চান।
তিনি বলেন, আমি সুপ্রিম কোর্টের থেকে যে টাকা পেয়েছি, তা সেইসব বোনেদের জন্য কাজে লাগাতে চাই, যাঁরা আমারই মতো লড়াই করছেন। তাঁদের ছেলেমেয়েদর শিক্ষায় আমি এই অর্থ কাজে লাগাতে চাই। তিনি আরো বলেছেন, শালিহার নামে তিনি এই তহবিলের নামকরণ করবেন। তাঁর ৩ বছরের সেই ছোট্ট মেয়েটি গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল। উন্মত্ত জনতা তাকে খুন করে। তাঁর পরিবারের আরো ৬ জনকে সেই ২০০২ দাঙ্গার সময় হত্যা করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার গুজরাট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে বানো ও তাঁর পরিবারকে ২ সপ্তাহের মধ্যে সরকারি চাকরি ও বাসস্থান দিতে হবে। তাঁদের পছন্দ মতো জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা শালিহার দেহ ফেরত পাইনি। তার শেষকৃত্য করতে পারিনি। এই বিচার একপ্রকার শান্তির বার্তা এনে দিল।
তাঁর কথায়, আমি ১৭ বছর ধরে লড়াই চালাচ্ছি। আদালত আমার দুঃখ যন্ত্রণা বুঝেছে। আমার সংবিধান ও দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ছিল। বানোর আর এক মেয়ে হাজরা। সে আইনজীবী হতে চায়। উদ্দেশ্য অন্যান্য ধর্ষিতা মহিলাদের আইনি সাহায্য দেওয়া। এখনো সে পড়া চালিয়ে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় কানে আসার পর বানো তাঁর গণতান্ত্রিক প্রয়োগ করেছেন। এত বছর পর বিচার পেলেন বানো। তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছেন দেশের শীর্ষ আদালতকে।