টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সদ্য পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রযুক্তিবিদদের চাকরি পাওয়ার নিরিখে এগিয়ে বাংলা। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন বা এআইসিটিই-র সাম্প্রতিক তথ্য তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। এ বার সেই তথ্যে শিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
গড়ে ৫০-৫২ হাজার ছাত্র-ছাত্রী রাজ্যে প্রতি বছর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসে। গুজরাটে যেখানে ফি বছর ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য টেকনিক্যাল কোর্সে পড়াশোনা করেন।

গত শিক্ষাবর্ষে সে জায়গায় ২৪,৬৩৬ জন চাকরি পেয়েছে। ওড়িশা দীর্ঘদিন এই নিরিখে এগিয়ে ছিল। কিন্তু এ বছর প্রতিবেশী এই রাজ্যও বাংলার থেকে পিছিয়ে পড়েছে। এ রাজ্যে গত শিক্ষাবর্ষে ২৭,৬৭৫ জন পড়ুয়ার হাতে চাকরি তুলে দেওয়া গিয়েছে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, বড় রাজ্যগুলিতে কর্ম সংস্থান কমলেও পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, হরিয়ানার মতো রাজ্যে চাকরির হিসাব ঊর্ধ্বমুখী। চাকরি পাওয়ার হিসেবে গোটা দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান ভালো।

পশ্চিমবঙ্গের এই সাফল্যের কারণ হিসেবে বুদ্ধিজীবীরা নানা মত পোষণ করেছেন। শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, রাজ্যে এই তিন বছরে বিনিয়োগের অঙ্ক যেমন বেড়েছে, তেমনই শিক্ষাক্ষেত্রে সাধারণ ভাবে স্বচ্ছতা এসেছে।

এ বিষয়ে জেআইএস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তরণজিৎ সিংহ জানান, ‘বিভিন্ন সংস্থাকে আকৃষ্ট করার জন্য কলেজগুলির চেষ্টা বেড়েছে। পাশাপাশি আমার মনে হয়, বাংলার ছেলেমেয়েরা কোনও সংস্থায় চাকরিতে ঢুকলে ছেড়ে যায় কম। তাঁদের কাজের চাপ নেওয়ার ক্ষমতাও বেশি।’

অন্যদিকে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির (ম্যাকাউট) উপাচার্য সৈকত মৈত্রের বক্তব্য, ‘গত কয়েক বছরে আমরা যে চেষ্টাগুলি শুরু করেছিলাম, তারই ফল আসতে শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাকি রাজ্যের থেকে আমরা এগিয়ে। সময়োপযোগী পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি মান বজায় রাখতে নানা মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরও শিল্প সংস্থাগুলির চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বণিক সভা ও সংগঠনের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। যা আমাদের অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখছে।’