টিডিএন বাংলা ডেস্ক: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউনে মানুষ কাজ কাম হারিয়ে চরম বিপদের মধ্যে। বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে থাকলেও মানুষের এমন দুর্দিনে কোথাও খোঁজ নেই মালেগাউ বিস্ফোরণের অন্যতম দোষী তথা ভোপালের বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের। দীর্ঘ দিন তার দেখা না পেয়ে পুরো ভোপাল জুড়ে পড়ে গেছে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার।  দুর্দিনে কোথায় প্রজ্ঞা সিং? এমন পোস্টার পড়তেই বিজেপির তরফে জানানো হল, ক্যান্সার ও চোখের চিকিত্সার জন্য এইমসে ভর্তি রয়েছে সাংসদ প্রজ্ঞা সিং। শুক্রবার সকালে মধ্যপ্রদেশের রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ভোপাল লোকসভার সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের ‘নিখোঁজ’ পোস্টার প্রকাশিত হয়েছিল, তারপরেই বিজেপির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তিনি ক্যান্সারে ও চোখের চিকিত্সায় হাসপাতালে রয়েছেন।

বেনামে পোস্টকারীরা জানিয়েছে, বিজেপি সাংসদ নিখোঁজ ছিলেন তার কারণ ভোপালে শহর এখন করোনা ভাইরাসের কবলে। এদিকে, প্রজ্ঞা সিং ভিডিও কল করে শহরের বৈরাগড় চিচলি অঞ্চলে সাহকর ভারতী দ্বারা পরিচালিত একটি মোবাইল হাসপাতাল পরিষেবা চালু করেন এবং তার এক কর্মী উমাকান্ত দীক্ষিত দাবি করেন যে প্রজ্ঞা সিং নিখোঁজ ছিলেন না তবে দিল্লির একটি হাসপাতালে তিনি ছিলেন।

ভোপাল দক্ষিণ-পশ্চিম আসনের কংগ্রেস বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী পিসি শর্মা পোস্টারকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে এই সঙ্কটাপন্ন সময়ে ঠাকুরের অবস্থান সম্পর্কে লোকেরা জানতে চাই। শর্মা দাবি করেন, সিনিয়র কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ, যিনি ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ঠাকুর ৩.৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও তিনি লকডাউনের সময় শহরে রয়েছেন এবং লোকদের সহায়তা করে চলেছেন।

রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র রাহুল কোঠারি পিটিআইকে বলেছেন প্রজ্ঞা সিং ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে তিনি ক্যান্সার এবং চোখের চিকিত্সার জন্য দিল্লির এইমসে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রজ্ঞা সিং এর নির্বাচনী এলাকায় খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি কংগ্রেস নেতা  দিগ্বিজয় সিং কে কটাক্ষ করে বলেন, দিগ্বিজয় সিংয়ের প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল “রাজনীতি”।

উল্লেখ্য, এর আগে ছিঁদোয়াড়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ এবং তার সাংসদ পুত্র নকুল নাথ এবং গওয়ালিয়ায় সদ্য কংগ্রেস থেকে  বিজেপি যোগ দেওয়া বিজেপি নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার জন্যও এই ধরনের ‘নিখোঁজ’ পোস্টার লাগানো হয়েছিল।