টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সারাদেশের মধ্যে একমাত্র অসমে তৈরি হয়েছে নাগরিকপঞ্জির নবায়ন বা এনআরসি। সেই এনআরসি এখন ডাস্টবিনে যাওয়ার উপক্রম। অসম সরকার ‘ভুলে ভরা ‘ এনআরসি মানবে না বলে এখনও এই বিষয়ে কোনও নােটিফিকেশন জারি করেনি। কাজ বন্ধ এনআরসি সেবাকেন্দ্র গুলােতে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি চাইছে নতুন করে এনআরসি হােক । অথচ অসমে এনআরসি করতে গিয়ে খরচ হয়েছে ১৬০০ কোটি টাকা। কোথা খরচ হল এই বিপুল পরিমাণ টাকা ? কেউ বলতে পারছেন না। কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে , তার সঠিক হিসাব নেই।

হিসাব দিতে পারেননি তৎকালীন এনআরসি সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলাও । কাজেই তার বিরুদ্ধেই উঠেছিল এনআরসি – কেলেঙ্কারির অভিযােগ। সেই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছিল। শুরু হয়েছিল এনআরসি খাতে
খরচের খতিয়ান যাচাইয়ের তদন্ত। এখন সেই তদন্ত ও থমকে আছে। আর হিসেরে গরমিলের মধ্যেই সমন্বয়কের পদ থেকে সরিয়ে প্রতীক হাজেলাকে বদলি করা হল মধ্যপ্রদেশ । সুতরাং তদন্ত্রকারীদের কাছে জবাবদিহি করবেন কে ? উঠছে প্রশ্ন ।

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে অসমের মতাে একটি ছোট্ট রাজ্যেই যদি এনআরসি করতে ১৬০০ কোটি টাকা খরচ হয় , তাহলে দেশজুড়ে এনআরসি করতে কত খরচ হবে। সরকারের যে পরিমাণ অর্থ আছে হবে , তাতে তো বেশ কয়েক বছরের জাতীয় বাজেটকে ছাড়িয়ে যাবে । তারপর ও কি উন্নয়ন ও জনমুখী কাজ করার মতাে কোনও অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে ? তা সত্ত্বেও অমিত শাহরা নিয়মিত হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন , দেশজুড়ে এনআরসি হবে !

অসমের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি থেকে প্রশ্ন উঠেছে , ১৬০০ কোটি টাকা এনআরসি বা কী করে হল ? অফিস পদ্ধতি মেনেই কাজ হয়েছে কি না । অফিসসামগ্রী কেনার সময় নিয়ম মেনে দরপত্র ডান্স হয়েছিল কি ? এসব বিষয়ে এখনও কিছু বিস্তারিত জানা যায়নি। যেহেত তৎকালীন সময়ে এনআরসি হল একটি সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত প্রক্রিয়া। তাই এই প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে শেষ করার বিশেষ তাগিদ ছিল। সেই তাগিদের কারণে তৎকালীন সময়ে তড়িঘড়ি কেনা হয়েছিল অনেক অনেক জিনিসপত্র । যার মধ্যে কম্পিউটার , জেনারেটর থেকে শুরু করে অফিস ফার্নিচার ডিজিটাল – ইলেকট্রনিক গ্যাজেট , কালি , কাগজ , খাতাপত্র কেনা হয়েছে।

পরবর্তীতে জানা গিয়েছে , সবক্ষেত্রেই খরচ দেখানাে হয়েছে আকাশছোঁয়া। এর পরই অভিযােগ ওঠে, এসবের মীমাংসা বা হিসাব না হওয়ার আগেই বিশাল কেলেঙ্কারির নায়ক ‘ চলে গেলেন রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে । অথচ এই নিয়ে অসামের বিজেপি সরকারের কোনও হেলদোল নেই।

আরও বিস্ময়কর হল , সিএএ নিয়ে আন্দোলনমুখর বিরােধী দলগুলােও এত বড় এনআরসি কেলেঙ্কারি নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করছে না। কংগ্রেস , এআইইউডিএফ , অগপ কিংবা অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন সবাই ‘ স্পিকটি নট ‘ । কেউ কোনও কথাই বলতে চাইছেন না এই বিষয়ে । আর অসম তথা দেশজুড়ে চলা নাগরিকত্ব সংশােধনী বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জেরে একেবারে পিছনে চলে গিয়েছে অসমের ১৬০০ কোটি টাকার এনআরসি কেলেঙ্কারি। অথচ সচেতন মহল বলছে , এত বড় আর্থিক কলেঙ্কারি অসমের ইতিহাসে খুব একটা হয়নি। তা সত্ত্বেও তরুণ গগৈ , সমুঘল নীরব কেন , তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ।

প্রসঙ্গত , ২০১৫ থেকে ২০১৯ অবধি তুলতে থাকা এনআরসি প্রত্রিয়াতে সাংঘাতিক ধরনের আর্থিক তছরুপের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে কেন্দ্র সরকারি সংস্থা সিএজি – র অডিট রিপাের্টে । সেই রিপাের্টের কথাও প্রথম জনসমক্ষে তুলে ধরেছিলেন অসমের প্রভাবশালী অথমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা । তিনিও এখন নীরব । এখন সিএএ – র আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে এনআরসি কেলেঙ্কারির বিষয়টি ।

সৌজন্য-কলম