টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মুখে আর বিজ্ঞাপনেই আটকে রয়ে গেছে বিকাশ বা উন্নতি শব্দটি। বাস্তবে তা ধরাছোঁয়ার বাইরে তা বার বার প্রমাণিত হচ্ছে। দেশব্যাপী আর্থিক মন্দা। অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে তুলতে মরিয়া কেন্দ্র সরকার। নোট বাতিলের পর থেকে অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সেই ছবিটা শহর থেকে গ্রামের একই। রোজগার কমেছে প্রত্যেকটি সংসারে। কাজ হারিয়েছে অনেকেই। সংসার চালাতে গিয়ে তীব্র ধাক্কা খেতে হচ্ছে চাষি পরিবারগুলিকেও। এমনটাই ছবি ধরা পড়ল এবার এক চাষির পরিবারের। অভাবের তাড়নায় সংসারের সব খুইয়েছেন। কিন্তু সন্তানদের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দিতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করলেন এক মা। ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর সালেমে।

সুত্রের খবর, ওই অভাবী মায়ের মান প্রেমা। জানাগেছে তার স্বামী ধার-দেনায় মাস সাতেক আগে আত্মহত্যা করেন। এর পর থেকে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার গুজরান। কিন্তু রোজগার না থাকায় অভাবের তাড়নায় কারও মুখেই খাবার তুলে দিতে পারছিলেন না প্রেমা। কারও কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েও কোনও লাভ হয়নি। হাজার চেষ্টা করেও কোনও কাজ জোটাতে পারেননি। দিনের পর দিন না খেয়ে থেকে অবশেষে তিন সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রেমা। কিন্তু সেটাও ব্যর্থ হয়। শেষমেশ সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে নিরুপায় হয়ে ১৫০ টাকায় নিজের মাথার সমস্ত চুল বিক্রি করে প্রেমা।

হাতে পাওয়া ১৫০ টাকা দিয়ে দোকানে কীটনাশক কিনতে গিয়েছিলেন প্রেমা। পরিকল্পনা ছিল, কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করবেন। কিন্তু প্রেমার হাবভাব দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। তিনি তাই কীটনাশক বিক্রি করেননি। এর পর বিষাক্ত গাছ খেয়ে মরতে চেয়েছিলেন প্রেমা। কিন্তু তাতে বাধা দেয় তাঁর বোন। দিনের পর দিন দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই! কতদিন আর মন শক্ত করে লড়তেন তিনি। প্রেমার দুর্ভাগ্যের কথা জানাজানি হওয়ার পর অবশ্য অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সালেমের জেলা প্রশাসন তাঁকে বিধবা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।