টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কী নিয়ে বিবাদ, কেন বিবাদ- সেসব বোঝার বয়স হয়নি ওর। অথচ সেই বিবাদের শিকার হতে হল তাকে, তিন বছরের একরত্তি মেয়েটাকে। পয়সা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর গন্ডগোলের জেরে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে সে। আবর্জনার স্তুপ থেকে পচে যাওয়া ছোট্ট দেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুচড়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে পা, খুবলে নেওয়া হয়েছে চোখও। নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার সাক্ষী থেকেছে উত্তরপ্রদেশের আলীগড়। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের আইন শৃংখলার অবনতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠছে দেশ জুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার প্রতিবাদী বার্তা আছড়ে পড়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ। ঘটনাটি গত মাসের শেষের দিকে ঘটলেও প্রকাশ্যে এসেছে শুক্রবার। দুই অভিযুক্ত জাহিদ এবং আসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেরায় খুনের কথা স্বীকারও করেছে তারা। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একজন এস এইচ ওসহ পাঁচজন পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল ওই শিশু টুইংকেল শর্মা। গত ৩০ মে আচমকাই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় সে। আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে ওই শিশুর মা বাবা কাছাকাছি সমস্ত জায়গায় খুঁজেও পাননি মেয়েকে। একদিন পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তারা। কিন্তু পুলিশ কোনো রকম তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ। পুলিশ তদন্তে ঢিলেমি করছে বলে বারবার সরব হয়েছে শিশুর পরিবার। কিন্তু পুলিশ কোনভাবেই গুরুত্ব দেয়নি। গত রবিবার জঞ্জালের স্তূপ থেকে পাওয়া যায় দেহটি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে দেহটি চোখে পড়ে এক মহিলার। তিনি চিৎকার করে ওঠেন এবং আশেপাশে খবর দেন। দেহটি কুকুরে টানাহেঁচড়া করেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তখন তারা এসে দেহ উদ্ধার করে। এস এস পি আকাশ কুলহারি জানান, বৃহস্পতিবার পাঁচজন পুলিশ অফিসারকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। সার্কেল অফিসার পঙ্কজ শ্রীবাস্তবের তদন্তের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুলহারি জানান, ছ’সদস্যের সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। একজন মহিলা ইন্সপেক্টর রয়েছেন তদন্তের দায়িত্বে। নিহত শিশুর বাবা বানোয়ারী লাল শর্মার অভিযোগ, অভিযুক্তের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের গ্রেফতার করা না হলে তিনি অনশনে বলবেন বলেও হুমকি দেন। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বানোয়ারীলালের সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস দেন এস এস পি। তারপরেই নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বানোয়ারী লাল। ফাস্টট্রাক আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলবে জানিয়েছেন কুলহারি। জাতীয় সুরক্ষা আইনের অধীনে তদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু পকসো আইনের অধীনে ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, জাহিদ ও আসলামের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল এই পরিবারের। দুই পরিবারের বাস কাছাকাছিই। কিন্তু টাকা ধার নেওয়া এবং সময়মতো তার শোধ না করা- এই নিয়েই বিবাদ চরমে পৌঁছায়। সম্পর্কে আসে তিক্ততা। তবে কে কার থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, জাহিদ এবং আসলামের কাছ থেকে ১২ টাকা ধার করেছিলেন ওই শিশুর বাবা। সেই টাকা তিনি শোধ করতে না পারায় ওই শিশুকে খুন করা হয়েছে বলে জেরায় স্বীকার করেছে জাহিদ। আরেকটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী,জাহিদ ওই শিশুর দাদুর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা শোধ না করে আরো ১০ হাজার টাকা ধার চায়।