টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ভরা ভোটের মরসুম। মোদীও আবারও স্বপ্ন ফেরি করছেন। এই অবস্থায় আবারও বিজেপির হিন্দুত্বের লাইন নিয়ে প্রশ্ন উঠল। অন্তত যোগী মন্তব্যে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উঠতেই চেনা ছন্দে ফিরলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার তিনি উত্তরপ্রদেশে একাধিক নির্বাচনী জনসভা করলেন। কিন্তু তার আগে সকাল সকাল ট্যুইট করে ৭২ ঘণ্টার নীরবতা ভাঙেন তিনি। আর সেই ট্যুইটে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে হিন্দুত্বই তাঁর পরিচয়। তিনি ধার্মিক হিন্দু। হিন্দুত্বে ভর কর করেই কি বিজেপি এখন ১৯-এর বৈতরণী পেরোতে চাইছে? যোগী মন্তব্যে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

কয়েকদিন আগে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেই সভার পর যোগীকে শাস্তি দেয় নির্বাচন কমিশন। তাঁর উপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কমিশনের তরফে জানানো হয় যে ওই সময়ের মধ্যে যোগী কোনও নির্বাচনী জনসভা করতে পারবেন না। এমনকী অংশ নিতে পারবেন না কোনও রোড শো-তেও।

শুক্রবার কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উঠতেই তা নিয়ে ট্যুইট করেন যোগী। লেখেন, দেশের সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে সম্মান করা ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব বজায় রাখা বিজেপির আদর্শের অভিন্ন অংশ। গত ৭২ ঘণ্টা ধরে আমি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের মর্যাদা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।

এছাড়া এদিন আরও কয়েকটি ট্যুইট করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। সেই ট্যুইটগুলির একটিতে তিনি সকলকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানান। প্রশ্ন উঠছে হনুমানই কি এখন যোগীদের ত্রাতা? আর অন্য একটি ট্যুইটি তিনি নিজেকে ধার্মিক হিন্দু বলে পরিচয় দেন। তবে তিনি অন্য সব ধর্ম ও অন্য ধর্মের সব মানুষকে শ্রদ্ধা করেন বলেও জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রচার না করলেও ঘরে বসে থাকেননি যোগী। বরং ঘুরেছেন উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। একাধিক মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়েছেন।

সেই নিয়েও তিনি এদিন ট্যুইট করেন। যোগীর মতে, ঈশ্বরের আরাধনাকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা অনুচিত। আস্থার অধিকার সংবিধান প্রদত্ত। এটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।