টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মাত্র কদিন আগে কেন্দ্রের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে দেশের মধ্যে মিড ডে মিলে দুর্নীতিতে শীর্ষে স্থান রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। মিড ডে মিলের দুর্নীতি নিয়ে তথ্য দিতে গিয়ে একথা জানান মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল। এবার আরও এক মিড ডে মিল কেলেঙ্কারির খবর সামনে এলো। ১ লিটার দুধ জল দিয়ে ৮১ জন পড়ুয়াকে খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে একটি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রের চোপন ব্লকের কোটা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক স্কুলে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষামিত্রকে সাসপেন্ড করেছে প্রশাসন।

জানা গেছে, সলাইবলওয়া প্রাথমিক স্কুলে মিড ডে মিলে বুধবার বরাদ্দ ছিল খিচুড়ি আর দুধ। দুধ দেওয়ার সময় ১ লিটার জলে মিশিয়ে দেওয়া হয় ১ বালতি জল। তারপর তা বিলি করা হয় ৮১টা ছেলেমেয়ের মধ্যে। স্কুলে রান্নার দায়িত্বে থাকা ফুলবন্তী বলেছেন, পড়ুয়াদের দেওয়ার জন্য ১ লিটারই দুধ দেওয়া হয় তাঁকে, বাধ্য হয়ে তাতে জল মিশিয়ে পরিমাণ বাড়ান তিনি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের শিক্ষা আধিকারিকরা। সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। নতুন করে দুধ খেতে দেওয়া হয় ছাত্রছাত্রীদের। আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, দোষ ওই কর্মীরই ছিল, ঘটনার তদন্ত করা হবে।

বিষয়টি জানার পর জেলা আধিকারিকরা বলেছেন, পর্যাপ্ত দুধ দেওয়া হবে স্কুলে। একই সঙ্গে তদন্তও করা হবে। নির্ধারিত পরিমাণে দুধ দেওয়া সত্ত্বেও তা যাচ্ছে কোথায়?‌ স্কুলের রাঁধুনি আবার বলেছেন, তাঁকে নাকি এক লিটার দুধই দেওয়া হয়েছিল পড়ুয়াদের খাওয়ানোর জন্য। স্কুলের এক শিক্ষকের কথায়, ‘‌রাঁধুনি হয়ত জানতেন না আরও দুধ রয়েছে।’‌ বিষয়টি চেপে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মিড ডে মিল নিয়ে কেলেঙ্কারির খবর অবশ্য এই প্রথম নয়, এর আগেও গত সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশে মিড ডে মিলে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। মির্জাপুর জেলার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মিডডেমিলের বদলে নুন রুটি খাওয়ানোর ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে দেখা গিয়েছিল। যার ফলে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের নুন রুটি খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল করার অপরাধে পবন জয়সওয়াল নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল যোগী প্রশাসন।