টিডিএন বাংলা ডেস্ক:সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফোর্মস এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তারা বলা হয়েছে, বিগত ১৫ বছরে ফৌজদারি মামলা চলছে এমন সাংসদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘দাগী’ সাংসদ নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে জেডিইউ, তাদের ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা। এরপরেই রয়েছে শিবসেনা (১১/১৮)। কংগ্রেসের ৫২ জনের মধ্যে ৩০ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তৃণমূলের ২২ জন সাংসদের ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিজেপির ৩০২ সাংসদের মধ্যে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা চলছে। সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে যে অপরাধে অভিযুক্ত ব‍্যক্তিদের নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য কোনো টিকিট দেওয়া যাবে না। এই মর্মে রাজনৈতিক দলগুলোকে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেরলে বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে এমন একজনকে, যাঁর বিরুদ্ধে সর্বমোট ২৪০টি এফআইআর রয়েছে।

প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় বিজেপি কেরালা সভাপতির পদ খালি পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বছর বয়সি কে সুরেন্দ্রনকে এনে সেই শূন্যপদ পূরণ করল বিজেপি। নেতা হিসেবে তিনি আনকোরা নন। সুসস্পষ্ট বক্তব্যের কারণে রাজনৈতিক মহলে তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। অতীতে প্রচারের আলোয় এসেছেন শবরীমালার ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে। শনিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগত্‍‌ প্রকাশ নাড্ডা কেরালার বিজেপি সভাপতি হিসেবে কে সুরেন্দ্রনের নিয়োগের কথা জানান। শুধু সুরেন্দ্রনকে আনাই নয়, অন্যান্য রাজ্যেও সভাপতি বদলে, নিজের পছন্দের লোককে আনছেন নাড্ডা।

তবে সবচেয়ে বড় কথা, সুরেন্দ্রনের বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাঁধানোর মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তাঁর চেয়েও বড় কথা হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর ২০ বছরের সম্পর্ক। ২০০১ সালে মোদীর অনুবাদকের ভূমিকাতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। সুরেন্দ্রনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ছবিতে তাঁকে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা গিয়েছে। ছবিটি ২০০১ সালের এপ্রিলের। নরেন্দ্র মোদী তখন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। সেই ছবি-সহ সুরেন্দ্রন লিখেছেন, ‘কেউ ভাবেননি এই ব্যক্তি (নরেন্দ্র মোদী) পরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। বিজেপিতেই এটা সম্ভব!

উল্লেখ্য, একদিকে দেশের শীর্ষ আদালত চাইছে রাজনীতির শুদ্ধকরণ করতে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দাগি অপরাধীদেরই পাকাপাকি ভাবে দলের প্রধান মুখ করে তুলে আনছে বিজেপি।