টিডিএন বাংলা ডেস্ক:

বাংলাদেশ-২৩৯/১০

পাকিস্তান-২০২/৯

বাংলাদেশ ৩৭ রানে জয়ী

গত এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ-ভারত। ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। এবারও ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ-ভারত। গতকাল সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে এলো বাংলাদেশ। এটা নিয়ে তৃতীয় বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠল টাইগাররা। অবশ্য প্রথম দল হিসেবে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন ভারত। ফলে শুক্রবার এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত। ফাইনালে উঠার জন্য বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ন। গুরুত্বপূর্ন এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৪৮.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে করে ২৩৯ রান। ফলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে টার্গেট ছিল ২৪০ রান। টার্গেটটা বড় না হলেও টাইগার বোলারদের সামনে ২০২ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। আর পাকিস্তানকে বিদায় করে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। পাকিস্তান ৯ উইকেটে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত করতে পারে ২০২ রান। দলের পক্ষে শাহীন ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে টার্গেট ছিল ২৪০ রান। টার্গেটটা যে খুব বড় ছিল তা কিন্তু নয়। তবে ব্যাট করতে নেমে টাইগার বোলারদের সামনে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। অবশ্য ওপেনার ইমাম উল হক আর আসিফ আলীর ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। কিন্তু এই দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করলে শেষ পর্যন্ত আর টার্গেট রানের কাছে যেতে পারেনি পাকিস্তান। কারণ টাইগার বোলারদের সামনে ২০২ রানেই আটকে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। দলীয় ২ রানে প্রথম উইকেট আর ৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো পাকিস্তান ১৮ রানে হারায় প্রথম তিন উইকেট। বোলিংয়ে প্রথম আঘাতটা হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে রুবেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ওপেনার ফখর জামান মাঠ ছাড়েন ১ রানে। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে মোস্তাফিজের বলে এলবি আউট হয়ে ১ রানেই ফিরেন বাবর আজম। দলীয় ১৮ রানে মোস্তাফিজের দ্বিতীয় আঘাতে ১০ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তবে ওপেনার ইমাম উল হকের সাথে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ উইকেট জুটিতে অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এই জুটি ভাঙ্গার আগে পাকিস্তান পৌছে যায় ৮৫ রানে। শোয়েব মালিকের বিদায়ে ভাঙ্গে এই জুটি। রুলেরের বলে মাশরাফির অসাধারণ এক ক্যাচে মাঠ ছাড়ার আগে শোয়েব মালিক ৫১ বলে করেন ৩০ রান। ব্যাট করতে নেমে শাদাব খান ৪ রানে আউট হলে ৯৪ রানে পাকিস্তান হারায় ৫ উইকেট। তবে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৬৫ রানে নিয়ে যান ইমাম উল হক-আসিফ আলী জুটি। দলীয় ১৬৫ রানে আসিফকে বিদায় করেন মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ৩১ রান করেন আসিফ। আসিফের বিদায়ে বেশি সময় টিকতে পারেননি ওপেনার ইমাম উল হক। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে লিটনের হাতে কট বিহাইন্ড হন ইমাম। তবে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ১০৫ বলে ৮১ রান। আসিফ আর ইমামকে আউট করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় টাইগাররা। কারণ ব্যাট করতে নেমে আর কোন ব্যাটসম্যান নিজেদের তুলে ধরতে না পারলে ৯ উইকেটে ২০২ রান করতে পারে পাকিস্তান।  আর বাংলাদেশ জয় পায় ৩৭ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান ৪টি আর মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট।

এর আগে, টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তবে চতুর্থ উইকেটে মুশফিক-মিথুন জুটির ১৪৪ রানের উপর নির্ভর করে শেষ পর্যন্ত ২৩৯ রান করতে পারে বাংলাদেশ। মাত্র এক রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি মুশফিক। শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৪৪ রান করা মুশফিক এই ম্যাচে করেন ৯৯ রান। ব্যাট করতে নেমে ৫ ওভারে ১২ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্রুত ফিরে যান লিটন দাসও। ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে প্রথম ধাক্কাটা দেন জুনাইদ খান। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রথম বারের মতো টুর্নামেন্টে খেলতে নামা সৌম্য সরকারকে। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেছেন সৌম্য। ফলে দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আর দলীয় ১২ রানে মুমিনুলকে বিদায় করেছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। আউট হওয়ার আগে তিনি করেছেন ৫ রান। মুমিনুলের বিদায়ের পরপরই আবার লিটন দাসকে ফিরিয়েছেন জুনাইদ খান। লিটন আউট হয়েছেন ৬ রান করে। দলীয় ১২ রানে প্রথম তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত টেনে তুলেছেন মুশফিক-মোহাম্মদ মিথুন জুটি। এই জুটিই প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। পাকিস্তানি বোলারদের শুরুর দাপট সামাল দিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দুজনই ফিফটি করেছেন। ৬৮ বলে ৫ চারে মুশফিক ফিফটি করার পর মিথুন ফিফটি করেন ৬৬ বলে তিন চারে। এই জুটিই দলকে ১৫৬ রানে পৌছে দেয়। এই জুটির সংগ্রহ ১৪৪ রান। দলীয় ১৫৬ রানে এই সফল জুটির ভাঙ্গন ধরান হাসান আলী। মিথুনের বিদায়ে ভাঙ্গে এই জুটি। তবে হাসানের বলে তার হাতে ক্যাচ তুলে আউট হওয়ার আগে মিথুন ৮৪ বলে করেন ৬০ রান। মিথুন আউট হলেও ইমরুল কায়েসকে নিয়ে আবার নতুন জুটি করেন মুশফিক। তবে শাদব খানের বলে ইমরুল ৯ রানে এলবি আউট হলে বাংলাদেশ ১৬৭ রানে হারায় ৫ম উইকেট। দলীয় ১৯৭ রানে বাংলাদেশ হারায় মুশফিকুর রহিমের উইকেট। শাহীন শাহ এর  বলে আউট হওয়ার আগে মুশফিক করেন ৯৯ রান। মাত্র এক রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পানেনি মুশফিক। ১১৬ বলে ৯ চারে সাজানো ছিল মুশফিকের ৯৯ রানের গুরুত্বপূর্ন এই ইনিংস। ব্যাট করতে নেমে মিরাজ ১২ রানে আউট হওয়ার পর মাহমুদুল্লাহকে ২৫ রানে জুনায়েদ বোল্ড করলে রানের গতিটা একটু কমে যায়।  মাশরাফির ১৩ রানে দলের স্কোরটা শেষ পর্যন্ত থামে ২৩৯ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে জুনাইদ খান ৪টি, শাহীন শাহ আফ্রিদি আর হাসান আলী নেন দুটি করে উইকেট। এই ম্যাচে দলের হয়ে মাঠে নামতে পানেনি সাকিব আল হাসান। আঙুলের চোটের কারণে শেষ মূহুর্তে দল থেকে বাদ পড়েছেন বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডার।