টিডিএন বাংলা ডেস্ক: এশিয়া কাপের সুপার ফোর-এর শেষ ম্যাচে আজ পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচের বিজয়ী দলই খেলবে ফাইনাল। এশিয়া কাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এটি। কারণ দল দু’টির জন্য ম্যাচটি অঘোষিত ফাইনাল। ফলে এই ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চায় বাংলাদেশ। আর ম্যাচে টাইগাররা জিতলে ২০১২ সালের ফাইনালে হারের প্রতিশোধও নেয়া হবে। আবু ধাবিতে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে মাত্র ২ রানে পাকিস্তানের কাছে হেরেছিলো বাংলাদেশ। শিরোপা জিততে না পারার সেই দুঃখে এখনো পুড়ছে বাংলাদেশ। তবে সেই দুঃখ কিছুটা ভোলার সুযোগ আজ বাংলাদেশের সামনে। এ জন্য হারাতে হবে পাকিস্তানকে। এশিয়া কাপের মঞ্চে পাকিস্তানকে প্রতিপক্ষ হিসেবেই পেলেই ছয় বছর আগের স্মৃতি চোখে ভেসে ওঠে টাইগারদের সামনে। ফাইনালের ঐ ম্যাচটি যতটা গুরুত্ব ছিলো, আজকের ম্যাচটিও ততটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ম্যাচের ফলের ওপরই নির্ভর করছে ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোর মিলিয়ে চার ম্যাচের দু’টিতে জিতেছে টাইগাররা। তিন বারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকাকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। তবে পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যায় তারা। কিন্তু  সেই হার খুব বেশি ক্ষতি করেনি বাংলাদেশকে। কারণ সুপার ফোর পর্বে খেলা আগেই নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। সুপার ফোর-এ ভারতের বিপক্ষে হারে বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে টাইগারা। ফলে ফাইনালে যেতে হলে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে আজ পাকিস্তানকে হারাতেই হবে বাংলাদেশকে। তবে শুধুমাত্র পারফরমেন্স দিয়েই নয়, ভাগ্য সাথে থাকলে জয় সম্ভব বলে মনে করেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে দলকে জয় এনে দেয়া কাটার মাস্টার  মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ব্যাপার আছে, যেমন ক্রিস গেইল যেদিন ভালো খেলে সেদিন আর কিছু করার থাকে না। তেমনি পাকিস্তানের বেলাতেও একই। তারা যেদিন খেলে, সেদিন কাউকে পাত্তা দেয় না। কিন্তু ভাগ্য যদি  আমাদের পক্ষে থাকে তাহলে তাদের জন্য দিনটি উল্টো হবে। আমাদের ভাগ্যে না থাকলে নাই।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর বাংলাদেশ দল বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মোস্তাফিজ। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের কারণে আমরা এখন ভালো অবস্থায় রয়েছি। পরের ম্যাচে ভালো খেলতে আমরা সাহস পাবো। এছাড়া আমরা জানি, পরের ম্যাচ জিতলেই ফাইনাল খেলতে পারবো। তাই আমাদের লক্ষ্য থাকেবে  ভাল পাপরফরমেন্স করা এবং  দলের সবাই এ জন্য উদ্গ্রীব।’ গ্রুপ পর্বে হংকং ও সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পায় পাকিস্তান। কিন্তু দু’পর্বেই ভারতের কাছে হারে পাকিস্তান। তাই পাকিস্তান দলকে নিয়ে শংকিত দেশটির সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের এই দল নিয়ে আমি বেশ শংকিত। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে তাদের।’ বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি যে চ্যালেঞ্জের, সেটি মানছেন পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম উল হকও। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য পরের ম্যাচটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। আমাদের আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। দলের সবাই ঘুড়ে দাঁড়ানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।’ এশিয়া কাপেও ওয়ানডে ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ১২বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সবগুলো ম্যাচই জিতেছে পাকিস্তান। তবে এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এক বারের সাক্ষাতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৫ লড়াইয়ে ৩১টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ৪টিতে জয় বাংলাদেশের। এরমধ্যে তিনটিই এসেছে সর্বশেষ সাক্ষাতে। সেটি ছিলো ২০১৫ সালে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, আরিফুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোমিনুল হক।
পাকিস্তান দল : সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ফখর জামান, ইমাম উল হক, শান মাসুদ, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, আসিফ আলী, হারিস সোহেল, শাদাব খান, মুহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, হাসান আলী, মোহাম্মদ আমির, জুনাইদ খান, উসমান সিনওয়ারি ও শাহিন আফ্রিদি।