টিডিএন বাংলা ডেস্ক : এক মরশুমে এফসি গােয়ার জার্সি গায়ে ২০ ম্যাচে ৪২ টি সেভ করেছেন, ৫ টি ম্যাচ ক্লিনশিট রেখেছেন। গত আইএসএলে এমনই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন এফসি গােয়ার তরুণ গােলরক্ষক মুহাম্মদ নওয়াজ। এফসি গােয়ার হয়ে সিনিয়ার দলে অভিষেক হয়েছিল তার। ২০১৮ সালে নর্থ – ইস্টের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে একটা ভুল বদলে দিয়েছিল প্রতিভাবান গােলরক্ষক নওয়াজকে। ২৫ গজ দুর থেকে ফের্ডিকো গাল্লেগাের দূরপাল্লা শট বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। সেদিন নওয়াজের ভুলেই নর্থ – ইস্টের কাছে হেরেছিল এফসি গােয়া। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই বর্তমানে গ্লাভস হাতে টিম গােয়াকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মণিপুরের এই গােলরক্ষক। এ প্রসঙ্গে নওয়াজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, গুয়াহাটিতে ভুলের জন্য কী খেসারত দিতে হয়েছিল, তা আমি কখনও ভুলতে পারিনি। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে তখনই মাঠে দাঁড়িয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিই, পরের মিনিট থেকে নিজের খেলায় আলাদাভাবে ফোকাস করব।

এফসি গােয়ার তৎকালীন কোচ সার্জিও লােবেরাে মণিপুরের এই তরুণ গােলকিপারকে আলােয় তুলে এনেছিলেন। চরম হতাশায় থাকা নওয়াজকে প্রথম এগারােয় সুযােগ দিয়েছিলেন লােবেরােই। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বেশ
আবেগপ্রবণ হয়ে মণিপুরি গােলরক্ষক মুহাম্মদ নওয়াজ এ দিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, অনুর্ধ্ব -১৭ বিশ্বকাপ ব্যাচে সুযােগ না পাওয়ায় আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলাম। প্রায় ৬ মাস পর কোচ সার্জিও লােবেরাে আমার কাছে আসেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলেন। আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যে দলে দু’জন ভালাে গােলরক্ষক থাকতে উনি আমাকে অভিষেক ঘটানাের সুযােগ করে দিতে এসেছেন। লক্ষ্মী ভাই এবং রালতে ভাই থাকতেও উনি আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। এটা আমি কোনও দিন ভুলতে পারব না।

গােলরক্ষক হিসাবে পরবর্তী সময়ে গােয়ার ফ্রাঞ্চাইজিকে নওয়াজ ভরসা জোগালেও তার ফুটবল কেরিয়ার শুরুটা হয়েছিল একজন ফরােয়ার্ড হিসাবে। এরপর হঠাৎই পট পরিবর্তন। কাকার সৌজন্যে গােলদাতা থেকে গােলরক্ষক নওয়াজ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে বলেন, “আমার তুতাে ভাই মুহাম্মদ ইয়াসিরকে দেখে আমার খেলাধুলায় আসা। আমি শুরুতে ফরােয়ার্ড হিসাবে খেলতাম, কিন্তু আমার আট বছর বয়সে বিষয়টা বদলে যায়। আমি স্থানীয় ক্লাবে গােলকিপার হিসাবে খেলি। এরপর ২০১০
সালে আমি জেলার দলে ট্রায়ালে যাই। সেই সময় মাত্র ৩ জন গােলকিপার ছিল। তখন আমার কাকা গােলকিপার হিসাবে আবেদন করতে বলে। আমি সেটাই করি, কারণ সেই সময় খেলাটাকে আমি মজা হিসাবে নিতাম। সেখান থেকেই আমি সুযােগ পাই মণিপুর দলে। এরপর ২০১২ সালে কলকাতায় খেলতে আসি। শেষপর্যন্ত আমি ভারতীয় অনুর্ধ্ব-১৩ দলে সুযোগ পাই। তারপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

লকডাউনে বাড়িতে থাকলেও নিজের ফিটনেস নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক এফসি গােয়ার এই তরুণ গােলরক্ষক। এ বিষয়ে নওয়াজ বলেন ‘লকডাউনে আমি বাড়িতে সময় কাটাচ্ছি। কিন্তু আমার ফিটনেসের
সমস্যা হচ্ছে। রমযান শেষ হওয়ার পর আমি ট্রেনিং শুরু করি এবং স্থানীয় কিছু ফুটবলারের সঙ্গে সকালে অনুশীলন করি।সন্ধ্যায় জিমে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করেছি। ‘গােয়ার প্রাক্তন কোচ সার্জিও লােবেরাের হাত দিয়ে অভিষেক হওয়া মণিপুরি গােলরক্ষক মুহাম্মদ নওয়াজ প্রথম ভারতীয় গােলরক্ষক হিসেবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলে নজির গড়ার অপেক্ষায় মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সৌজন্যে : পুবের কলম