স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : অনেকেই মনে করেছিলেন দিল্লিতে দু’জনের সাক্ষাতে হয়তো বরফ গলবে। রাগ-অভিমান ভুলে ফের নতুন করে সব শুরু করার সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। কিন্তু তেমনটা হলো না। বরং গৃহযুদ্ধ যেন আরো প্রকট হয়ে উঠল মহম্মদ শামি ও হাসিন জাহানের মধ্যে।
দুর্ঘটনায় আহত জাতীয় দলের পেসার মোহাম্মদ শামি আপাতত দিল্লির হোটেলে। সেখানেই মঙ্গলবার আহত স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শামির বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব অভিযোগ আনা স্ত্রী হাসিন। সঙ্গে ছিল মেয়ে বেবো। কিন্তু মেয়েকে দেখেও মন গলল না ভারতীয় পেসারের। কী কথাবার্তা হলো হোটেলের ঘরে?
সম্পর্কের টানাপোড়েন, অভিযোগ, পালটা অভিযোগের পালা কি মিটল? শামির সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজেই সে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন হাসিন। জানালেন, শামির সঙ্গে দিল্লির এক হোটেলে দেখা করতে গিয়ে তিনি দেখেন, শামির মা সেখানে উপস্থিত। তিনিও চাইছিলেন না হাসিনের সঙ্গে শামি আলাদা করে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। যার জন্য দীর্ঘক্ষণ স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না হাসিন। তবে বেবোর সঙ্গে কথা বলেছেন শামি। তার সঙ্গে খেলেছেন, মোবাইলে নানা ছবি দেখিয়েছেন। কিন্তু হাসিনের থেকে মুখ ফিরিয়েই ছিলেন সারাক্ষণ।
স্ত্রীর লাগাতার অভিযোগে তিনি যে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত, তা বারবার বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন। এমনটাই দাবি হাসিনের। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর শামির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে পারেন হাসিন। জানতে চান, “এভাবেই কি সব চলবে? কিছু সমাধান কি করবে না?” উত্তরে ভারতীয় ক্রিকেটার সাফ জানিয়ে দেন, হাসিন তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে যে নোংরামো করেছেন, তারপর আর তিনি কোনো কথা বলতে চান না। এর জবাব আইনিভাবেই তিনি দেবেন।
শামির বিরুদ্ধে পরকীয়া, একাধিক মহিলার সঙ্গে চ্যাটিং, শারীরিক অত্যাচারের মতো একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন হাসিন। এমনকী তার পরিবারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও এনেছিলেন। সেই পানি অনেক দূর গড়ায়। হাসিনের সঙ্গে বসে পারিবারিক অশান্তি মিটিয়ে নিতে চেয়েছিলেন শামি। কিন্তু স্ত্রী তখন রাজি হননি। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন হাসিন। কিন্তু এরই মধ্যে দেরাদুন থেকে দিল্লি যাওয়ার সময় পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন শামি। তার মাথায় সেলাইও পড়ে।
খবর পেয়েই সুর নরম হয়েছিল হাসিনের। স্বামীর সঙ্গে দেখার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। সেই মতোই এদিন উড়ে গিয়েছিলেন দিল্লিতে। শামির দিকে আঙুল তোলার পর এ দিনই প্রথম সাক্ষাৎ হয় দু’জনের। কিন্তু কোনো সমাধান সূত্র বেরলো না। বরং পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হলো। হাসিনও বলে দিচ্ছেন, “শামি যখন আইনি পদক্ষেপে সমাধান চায়, তাহলে তাই হবে। এমনিও ও আমার কাছে গত দু’বছর ধরে ডিভোর্স চাইছে। তাই আমি সব পরিস্থিতির জন্যই তৈরি। সত্যিটা কী, সবাই দেখতে পাবে।”