স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : ওয়ানডে সিরিজের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটাও হলো বৃষ্টিবিঘ্নিত। স্বল্প পরিসরের ম্যাচে রাঁচির বৃষ্টি আঘাত করলো বড়সড়, দ্বিতীয় ইনিংস নেমে এলো ছয় ওভারে। তাতে অবশ্য কিছু বদলালো না তেমন, ৪৮ রানের লক্ষ্যটা ভারত পেরিয়ে গেল অনায়াসেই। আর প্রথম ইনিংসে ছয়জন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান বোল্ড হয়ে ভাগ বসালেন এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি বোল্ডের রেকর্ডে, যেখানে এতোদিন ছিল স্কটল্যান্ড, হংকং, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউ গিনি।
ম্যাচের আগেই স্টিভ স্মিথ ছিটকে গেছেন তিন ম্যাচের সিরিজ থেকে, মাঠের পাশে বসে দেখলেন সতীর্থদের ব্যাটিংয়ের সংগ্রাম। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ডেভিড ওয়ার্নারের দলের এক অ্যারন ফিঞ্চই যা বিরুদ্ধ স্রোতে হাঁটলেন। তবে তার ৩০ বলে ৪২ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার বড় স্কোরের ভিত্তি গড়তে পারলো না। তিনে নামা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ছয়ে নামা টিম পেইন, দুজনই করলেন ১৬ বলে ১৭ রান করে। এছাড়া দুই অংক ছুঁতে পারেননি কেউ, ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সঙ্গে এতে দায় আছে রাঁচির উইকেটেরও। অনিয়মিত বাউন্স, পেসের অভাব, গ্রিপ, টার্ন বা মুভমেন্ট, একটা টি-টোয়েন্টি উইকেটে যা যা দেখতে চাওয়ার কথা নয়, তার সবই ছিল এখানে।
যেগুলো কাজে লাগিয়েছেন যুজভেন্দ্র চাহাল ও কুলদিপ যাদব। তাদের ফিঙ্গার-স্পিনের রহস্য অস্ট্রেলিয়া উদঘাটিত করতে পারেনি এ ম্যাচেও, সঙ্গে ছিলেন জাস্প্রিত বুমরাহও। তাদের ৬৬ বলে অজিরা নিতে পেরেছেন ৫৬ রান। ম্যাচটা টি-টোয়েন্টি, এটা ভুললে চলবে না কিন্তু!
এ তিন বোলারের চেয়ে একটু খরুচে হলেও উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার ও হারদিক পান্ডিয়াও। ১৮.৪ ওভার খেলা হওয়ার পর রাঁচির আকাশ ভেঙ্গে নেমেছিল বৃষ্টি, স্থানীয় সময় তখন রাত ৮.২০। খেলা শুরু হওয়ার শেষ সময় ছিল ১০.১৮, শুরু হলো এর মিনিট তিনেক আগে।
দ্বিতীয় ওভারে ১১ রান করা রোহিত শর্মাকেই শুধু বোল্ড করলেন ন্যাথান কোল্টার-নাইল, তবে উইকেটের জুজু কাটিয়ে এরপর বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান মিলে নিশ্চিত করলেন, দেশে ফেরার আগে স্মিথ সুখস্মৃতির খুবই ‘ছোট্ট’ তালিকাতে নতুন কিছু যোগ করতে পারছেন না।
অস্ট্রেলিয়া : ১১৮/৮, ১৮.৪ ওভার (ফিঞ্চ ৪২, ম্যাক্সওয়েল ১৭, পেইন ১৭, যাদব ২/১৬, বুমরাহ ২/১৭, চাহাল ১/২৩)
ভারত : ৪৯/১(লক্ষ্য ৬ ওভারে ৪৮), ৫.৩ ওভার (কোহলি ২২, ধাওয়ান ১৫, কোল্টার-নাইল ১/২০)
ফল : ভারত ডি-এল পদ্ধতিতে ৯ উইকেটে জয়ী