স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : ১৩ বল ৫ উইকেট। ২০০০ সালের পর এত কম বলে ৫ উইকেট নেননি কেউ। আকিলা দনঞ্জয়া নিলেন বৃহস্পতিবার, ক্যান্ডিতে। জয় থেকে ১০০ রান দূরে থাকতে ভারতীয় দলের ৭ উইকেট নেই হয়ে গেল তো দনঞ্জয়ার ওই ঘূর্ণির তোপেই। একমাত্র আশা হয়ে ছিলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি। দনঞ্জয়ার ‘জাদুবল’-এর তোপ সামলে উঠে ভারতীয় দল। তবে ধোনির চেয়েও বড় ভূমিকা এখানে ভুবনেশ্বর কুমারের, ব্যাটসম্যান ভুবনেশ্বরের। সিরিজে প্রথমবার লড়াই করেও জিততে পারলো না শ্রীলঙ্কা, হারতে হলো ওই ৩ উইকেটেই।

অথচ আরেকটি একপেশে ম্যাচের চিত্রনাট্যই যেন লিখে ফেলছিলেন ভারতের দুই ওপেনার। ২৩১ রানের লক্ষ্য, ১০৯ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙলো দনঞ্জয়ার বলেই, সুইপ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ রোহিত শর্মা। মিডল স্টাম্প দুমড়ে মুচড়ে দিতো সে বল, তবুও রিভিউ নিলেন কেন, সেটা রহস্য। ধাওয়ান ফিরলেন ৪ রান বাদেই, তবে এতে বোলার সিরিবর্ধনের চেয়ে কৃতিত্ব বেশি ফিল্ডার ম্যাথিউসের। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে লুফে নিলেন ক্যাচ, শ্রীলঙ্কা যেন বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিল তাতেই।

তবে সে ইঙ্গিতটা যে এতোটা ভয়ঙ্কর কিছুর, সেটা তখন কে জানতো! জানতেন বোধহয় দনঞ্জয়া। কেদার যাদবকে দিয়ে শুরু, লোকেশ রাহুলকে দিয়ে শেষ। মাঝে বিরাট কোহলি। এক ওভারে নেই ভারতের তিন ব্যাটসম্যান, তিনজনই বোল্ড, তিনজনই দনঞ্জয়ার ‘গুগলি’র শিকার। দনঞ্জয়ার গুগলি যেন তখন প্রাচীন কোনো ভাষা, যার জবাব নেই কারও কাছেই! অথচ দনঞ্জয়া আদতে একজন অফস্পিনার, তার দ্রুত চলা আঙ্গুলের কারুকার্য তাকে বানিয়ে দিয়েছে লেগস্পিনার!

হারদিক পান্ডিয়া প্রতি-আক্রমণ করতে গেলেন, মাঝপথেই বুঝলেন, বড্ড ভুল করে ফেলেছেন! কিন্তু তখন ফেরার উপায় নেই, দনঞ্জয়ার গুগলি তিনি বোঝেননি, উইকেটকিপার ডিকভেলা ঠিকই বুঝে ভেঙ্গে ফেলেছেন স্টাম্প! ভারতকে একসময় নাকানিচুবানি খাওয়ানো অজন্তা মেন্ডিস যেন ফিরে এলেন দনঞ্জয়ার রুপে। এরপরের ওভারে ‘সোজা’ বলে এলবিডাব্লিউ অক্ষর প্যাটেল। ভারতের অবস্থা তখন লন্ডভন্ড, সে ধ্বংসস্তুপে বিজয় নিশান ওড়াচ্ছেন দনঞ্জয়া!

সে পতাকা শেষ পর্যন্ত নামিয়েই ফেলতে হলো। ওপাশ থেকে সঙ্গীদের যাওয়া আসা দেখা ধোনির কাঁধে চাপল ভারতকে পার করানোর ভার, আরেকবার। ১০০ রানের অপরাজিত জুটি গড়লেন, ভারতের হয়ে ৮ম উইকেটে যা সর্বোচ্চ। যেখানে তিনি ‘হেল্পার’, ‘ড্রাইভার’ ভুবনেশ্বর! তারা দেখলেন, শুনলেন, বুঝলেন, খেললেন। ভুবনেশ্বর ৫৩ রানের ইনিংসে ৪টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ১টি ছয়, ধোনির ৪৫ রানের ইনিংসে শুধু একটি চার।

এ ইনিংসের চিত্রপটে আসলে মিশে গেছে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ডিকভেলার ঝড়ে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি, ৭০ রানে আরেক ওপেনার গুনাথিলাকার যাওয়া। এরপর ধ্বস, ৫১ রানে নেই ৪ উইকেট। ত্রাতা হয়ে এসেছিলেন মালিন্দা সিরিবর্ধনে, তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছেন চামারা কাপুগেদেরা। ৯১ রানের জুটি ছিল দুজনের, শ্রীলঙ্কা পৌঁছালো ২৩৬-এ। নামলো বৃষ্টি এরপর, ৪৭ ওভারে ভারতের লক্ষ্য ২৩১।

এরপরের কাহিনীটা তো শুনলেনই আগে! ও হ্যাঁ, সবাইকে ছাপিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন দনঞ্জয়াই! তার বোলিং-ই তো এদিনের সেরা রোমাঞ্চ!

শ্রীলঙ্কা : ২৩৬/৮, ৫০ ওভার(সিরিবর্ধনে ৫৮, বুমরাহ ৪-৪৩)

ভারত : ২৩১/৭, ৪৪.১ ওভার(৪৭) (রোহিত ৫৪, ভুবনেশ্বর ৫৩*, ধোনি ৪৫*, দনঞ্জয়া ৬/৫৪)

ফলঃ ভারত ৩ উইকেটে জয়ী