টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ফুটবলের জগতে এক নামেই তাকে সবাই চেনেন। কয়েক মাস আগেই তিনি স্পেন ত‍্যাগ করেছেন। বর্তমানে ইতালির অধিবাসী। স্পেন ত‍্যাগ করলেও বার বার তাকে স্পেনে ফিরে যেতে হয়। মঙ্গলবার এক কর ফাঁকি দেওয়ার মামলায় আর পাঁচজন সাধারণ অপরাধির মতোই তাঁকে হাজিরা দিতে হল স্পেনের এক আদালতে। শেষ পর্যন্ত কারাবাসের সাজা না হলেও ৩.৫৭ মিলিয়ন ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ১৫৪ কোটি টাকারও বেশি) জরিমানা দিতে হবে তাঁকে। কর ফাঁকির এই মামলাটি অবশ্য আজকের নয়, রোনাল্ডো রিয়াল ছাড়ার আগে থেকেই এই মামলাটি তাঁর নামে শুরু হয়েছিল।

২০০৯ সালে মাদ্রিদের ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন রোনাল্ডো। ২০১৭ সালে স্পেনের আয়কর বিভাগ জানিয়েছিল রোনাল্ডো ‘ইমেজ রাইস’ থেকে প্রাপ্য অর্থের এক পয়সাও আয়কর বাবদ জমা দেননি। এই ভাবে প্রায় ১৪.৭ মিলিয়ন ইউরো বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ফাঁকি দেন তিনি। প্রথমে রোনাল্ডো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পরে অবশ্য অপরাধ মেনে নেন।

স্পেনে কর ফাঁকির দায়ে কারাবাসের সাজা হয়। তবে প্রথমবার কর ফাঁকি দিয়ে ধরা পড়লে জরিমানার উপর দিয়েই পার পাওয়ার সুযোগ থাকে। আইনের এই ফাঁক ব্যবহার করেই এদিন কারাবাস এড়ান এই ফুটবল মেগাস্টার। এর আগেই তিনি স্পেনেরল আয়কর বিভাগকে ১৮.৮ মিলিয়ন ইউরো দিতে সম্মত হয়েছিলেন, তার সঙ্গেই জরিমানার অর্থটা বাড়তি দিতে হবে কিনা সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁকে যে জেল খাটতে হবে না তা মোটামুটি আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে রোনাল্ডো কিছু ছাড় দাবি করেছিলেন। আবেদন করেছিলেন যাতে আদালতে সামনের দরজা দিয়ে তাঁকে প্রবেশ না করতে হয়। কিন্তু তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি স্পেনের বিচার বিভাগ।

এদিন অবশ্য মাত্র ৪০ মিনিটের জন্য মাদ্রিদে এসে বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন তিনি। সঙ্গী ছিলেন বান্ধবী জর্জিনা। আদালতে প্রবেশের পথে স্বাভাবিকভাবই রোনাল্ডোর ভক্তকূল ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ভিড় জমিয়েছিলেন। তাঁকে ভক্তদের অটোগ্রাফ বিলোতেও দেখা যায়। শাস্তি মোটামুটি ঠিক থাকায় মিনিট ১৫-র বেশি আদালতে থাকতে হয়নি তাঁকে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রে সই করে তিনি আদালত ছাড়েন। এর আগে ২০১৬ সালে একই ভাবে কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে ২ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা ও ২১ মাসের কারাবাসের সাজা পেয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য অতিরিক্ত অর্থ জরিমানা দিয়ে কারাবাস এড়িয়েছিলেন মেসিও।