টিডিএন বাংলা ডেস্ক : শেষটা বোধহয় এমন হওয়ার কথা ছিল না। ম্যাচে হার। বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে এগিয়ে গেলেন প্রায় ফাঁকা গ্যালারির দিকে। অভিবাদন জানানোর অপেক্ষায় হাতে গোনা কিছু দর্শক। অভিবাদন গ্রহণ করলেন। কিন্তু তাঁর সতীর্থরা কোথায়? সবাইকে অবাক করে ম্যাচ শেষ হতেই তাঁরা ফিরে গেছেন ড্রেসিংরুমে। তিনি আজ যেন একাকী সৈনিক। ফুটবল জীবনের শেষ যুদ্ধে হেরে দাঁড়িয়ে আছেন। মেহতাব হোসেন। দীর্ঘ ফুটবল জীবনের শেষ ম্যাচটি খেললেন বৃহস্পতিবার। সাক্ষী রইলেন এক লজ্জার হারের।
ইন্ডিয়ান অ্যারোজের যুব ফুটবলারদের কাছে দল হারল ১-৩ ব্যবধানে। এখানেই লজ্জার শেষ নয়। বরং শুরু। রেফারির বাঁশি বাজতেই ড্রেসিংরুমের পথে গোটা মোহনবাগান দল। মেহতাবকে মাঠে একলা রেখেই। ফুটবল জীবনে ইতি টানা এক ফুটবলারকে সামান্য অভিবাদনও জানালো না মোহনবাগান। বরং সন্ধ্যার যুবভারতীতে অপূর্ব এক উদাহরণ হয়ে থাকলেন অ্যারোজের যুব ফুটবলাররা। মেহতাব যখন দর্শকদের অভিবাদন কুড়াচ্ছেন, তাঁর পাশে অ্যারোজের গোটা দল। কাঁধে তুলে নিলেন বহু যুদ্ধের নায়ককে। শুন্যে ছুঁড়ে আবার লুফে নিলেন রাহুল কেপি, অভিজিত সরকাররা। মেহতাবও জড়িয়ে ধরলেন তাঁদের। ঠিক যে কাজটা হয়তো করা উচিত ছিল সতীর্থদের। সেটা করলেন কয়েক মুহূর্ত আগের প্রতিপক্ষ ফুটবলাররা। এই ছবিটাই মাঠের বাইরেও হারিয়ে দিল মোহনবাগানকে। শেষ অবধি ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে ডেকে আনা হয় কয়েকজন মোহনবাগান ফুটবলারকে। আসেননি সব বিদেশিরাও।
কোনোমতে সারা হলো সংবর্ধনা পর্ব। উত্তরীয়, ফুল, স্মারক, উপহার সবই ছিল। কিছুক্ষণ আগের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। ফাঁকা গ্যালারি, দলের হার, সঙ্গে সতীর্থদের আচরণ। মেহতাবের দীর্ঘ, বর্ণময় ফুটবল জীবনের শেষটা কেমন যেন বেরঙিন। মেহতাবের অবসরের ম্যাচে জঘন্য ফুটবল উপহার দিল মোহনবাগান। ১৭ মিনিটে এগিয়ে গিয়েও হার ১-৩ ব্যবধানে। মোহনবাগানকে এগিয়ে দিয়েছিলেন আজহারউদ্দিন। ২৮ মিনিটে গোলরক্ষক কার্ডোজোর ভুলে গোল হজম করে মোহনবাগান। আনোয়ার আলির শট তাঁর হাত ফসকে বেরিয়ে এলে গোল করেন বঙ্গসন্তান অভিজিত সরকার। প্রথমার্ধে আর কোনও গোলের সন্ধান পায়নি কোনও দলই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দুরন্ত ফুটবল অ্যারোজের। একের পর এক সুযোগ পায় ফ্লয়েড পিন্টোর ফুটবলাররা। রাহুল কেপি একাই কাঁপিয়ে দিচ্ছিলেন মোহনবাগান রক্ষণ। ৭৪ মিনিটে অ্যারোজকে এগিয়ে দেন রাহুলই। বরিসের মাইনাস ধরে গোল তাঁর। পিছিয়ে পড়লেও পালটায়নি মোহনবাগানের খেলা। সংযুক্তি সময়ে ফের কার্ডোজোর ভুলে ব্যবধান বাড়ান অ্যারোজের রোহিত দানু। এছাড়া আরও দুটো সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে লজ্জা বাড়তো মোহনবাগানের।
ম্যাচের পর খালিদ জানিয়েছেন, ‘কাউকে দোষ দিতে চাই না। নিজের উপর লজ্জিত।’ ম্যাচের পর ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়া নিয়ে মোহনবাগান কোচ বলছেন, ‘এটা ভুল বোঝাবুঝি। আমরা জানতাম না। আমাদের থাকা উচিত ছিল।’ শেষ ম্যাচ খেলা মেহতাব বলছেন, ‘না হেরে শেষ করতে পারলে ভালো লাগত। মাঠটাকে খুব মিস করব। বড় ক্লাবে ১৭ বছর খেললাম। এর পিছনে আমার জেদ। এখানে ভালোবাসা পেয়েছি। ইস্টবেঙ্গলে ২০০৯ থেকে ২০১৬। মোহনবাগানে ২০০৩-২০০৬। আমার সোনালি সময়। বড় দলের জার্সিতে ফুটবল ছাড়তে পেরে ভালো লাগছে। ট্রেভর মরগ্যান, ফিলিপ ডি রাইডাররা মেসেজ করে বলছেন, আরও একবছর খেলতে পারতে। এটাই প্রাপ্তি।’ গণশক্তি