স্পোর্টস ডেস্ক, টিডিএন বাংলা : নাগপুর টেস্টে ভারতই যে জিতবে, তৃতীয় দিন শেষেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তবে লঙ্কান সমর্থকরা চান্দিমাল-থিরিমান্নেদের কাছে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য অসাধারণ কিছু আশা করছিলেন। ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ বাঁচাতে পারলেনই না, উল্টো দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৬ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ২৩৯ রানের বড় হার সঙ্গী হলো সফরকারীদের। এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বিরাট কোহলির দল।
প্রথম ইনিংসে ২০৫ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। জবাবে ছয় উইকেটে ৬১০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ৪০৫ রানে পিছিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা তৃতীয় দিন শেষে সংগ্রহ করে এক উইকেটে ২১ রান। চতুর্থ দিন স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১৪৫ রান তুলতেই বাকি নয় উইকেট হারায় লঙ্কানরা।
৪০৫ রানে পিছিয়ে থাকা লঙ্কান দল তৃতীয় দিনের শেষ কয়েকটি ওভার ভালোভাবে কাটাতে পারেনি। প্রথম ওভারেই সামারাবিক্রমকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন ইশান্ত শর্মা। তখন রানের খাতাও খোলেনি শ্রীলঙ্কা। এরপর অবশ্য দিনের বাকি সময়টুকু ভারতীয় বোলারদের ভালোভাবেই সামলান করুনারত্নে ও থিরিমান্নে।

চতুর্থ দিন ভারতীয় বোলারদের সামনে আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি করুনারত্নে-থিরিমান্নে। দলীয় ৩৪ রানে করুনারত্নেকে ফেরান জাদেজা। ১৮ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর উমেশ যাদব ফেরান থিরিমান্নেকে। লঙ্কানদের রান তখন ৪৮।
অ্যাঞ্জেলে ম্যাথিউসকে ফেরান জাদেজা। এর ফলে ইনিংস ব্যবধানটা নিশ্চিত হয়ে পড়ে লঙ্কানদের। নিরোশান দিকভেল্লাকে ফিরিয়ে দেন ইশান্ত শর্মা। দাশুন শানাকা উইকেটে এসেই ভারতীয় বোলারদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকেন। মাত্র আট বলে দুটি ছয় ও এক চারে ১৭ রান করেন তিনি। তবে অশ্বিনের ঘূর্ণির সামনে টিকতে পারেননি। লঙ্কানদের স্কোর তখন ১০২।
এরপর দ্রুতই দিলরুয়ান পেরেরা ও রঙ্গনা হেরাথকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের জয়ের সুবাস দিতে থাকেন অশ্বিন। সুরঙ্গা লাকমল ও দিনেশ চান্দিমাল কিছু সময়ের জন্য ভারতীয় বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। দলীয় ১৬৫ রানে চান্দিমালকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন উমেশ যাদব। এরপর গামাগেকে ফিরিয়ে ভারতের বড় জয় নিশ্চিত করেন অশ্বিন। চান্দিমাল ৬১, লাকমল ৩১, থিরিমান্নে ২৩ রান করেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে চার উইকেট নেন অশ্বিন। দুটি করে উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদ ও রবীন্দ্র জাদেজা।