সেখ সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, আন্দুল :- ঐতিহ্যবাহী নাথ বাড়ির শ্যামার আরাধনা আরও ঐতিহ্যবাহী। হাওড়ার আন্দুলের ঐতিহ্যবাহী কতকগুলি বাড়ির মধ্যে মহিয়াড়ি রথতলার নাথবাড়িও অন্যতম। বাড়ির প্রবীণদের থেকে জানা গেল সার্ধশতবর্ষত্তর এই পুজো দেবীর স্বপ্নাদেশের মাধ্যমেই নাকি শুরু হয়েছিল ১৮৬৩ সালে। এবার তা ১৫৪ বছরে পদার্পণ করল। নাথ বাড়ির এক সদস্যর কথায়, “পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের ধারাকে বজায় রেখেই কোজাগরী পূর্ণিমায় কাঠামো পুজো, হোমযজ্ঞ, আরতি, ধূনি প্রজ্জ্বলন প্রভৃতি একই ভাবে হয়ে আসছে”। তিনি আরও জানান যে, “সিদ্ধেশ্বরী রূপে পূজিত এই প্রতিমা প্রাচীন কালের মতই অনিন্দ্যসুন্দর। আর প্রতিবছরই এই অনিন্দ্যসুন্দর দেবীপ্রতিমা দেখতে পাড়াপ্রতিবেশী সহ দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজনরাও এসে জড়ো হয়। আগন্তুক দর্শনার্থীদের জন্য থাকে বিশেষ ভোগের ব্যবস্থা”।

ঐতিহ্যবাহী এই পুজোর আয়োজন শুরু হয় কোজাগরী লাক্ষীপূজার দিনে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে। ১৫৩ বছর আগের প্রথম পুজোর কাঠামোতেই নতুন করে গড়ে ওঠে প্রতিমা। পূর্ণচন্দ্র যতই এগিয়ে চলে অমাবস্যার দিকে ততই রূপ পেতে থাকে দেবী সিদ্ধেশ্বরী।পূর্ণলগ্নে ভোগ নৈবেদ্য ফলমূল সাজিয়ে উপচে পড়া হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শুরু হয় হোমযজ্ঞ। পূর্বপুরুষের দেখানো পথেই শুরু হয় দেবী বরণ। ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে হয় আরতি।বাড়ির মহিলারা সকলের মঙ্গল কামনার আকাঙ্খায় যোগদেন ধুনো পোড়ানোর উৎসবে। পুজো ও কাঠামোর মত প্রাচীন হারিকাঠটি ও রয়ে গেছে এখনো। আর প্রথা অনুযায়ী তাতেই হয় পাঁঠাবলি। সাথে আঁখ, কুমড়ো প্রভৃতিও বলি দেওয়া হয় বলে জানান বাড়ির বড়োরা।বাড়ির সদস্যেদের কথায় সাড়া বছর এই দিনগুলির জন্যই হাপিত্যেস হয়ে বসে থাকে সকলে। সারা বছরের সমস্ত আনন্দই যেন নিহিত থাকে পুজোর দিনগুলিতে। সর্বপরি এই দিন গুলিতেই বাড়ির সকলে মিলে একসাথে আনন্দ করার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই অন্যান্য দিনের থেকে এই দিনগুলিই হয়ে ওঠে অনন্য। আর পুজো শেষে ঠাকুরদালান থেকে নামিয়ে রীতি মেনে বরণ করা হয় দেবীকে। বাড়ির সকলে যেন তখন ব্যস্ত থাকে তাদের বাড়ির আদরের কন্যাকে বিদায় জানানোর জন্য।