সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, বৈষ্ণবনগর: কথায় আছে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মানলো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। কোন প্রতিবন্ধকতা যে শিক্ষার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তা একবার প্রমান করল আনিকুল ইসলাম। উচ্চ মাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৪০৯, ৮১.৮ শতাংশ।

জন্ম থেকেই দুই চোখে অন্ধ, ইশারায় চলাচল করে আনিকুল। এবারে ভগবানপুর কেবিএস হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা দিয়েছিল সে । তার লেখক গাইডার ছিল নবম শ্রেণীর এক ছাত্র। তার বাড়ি মালদা জেলার কালিয়াচক ৩ ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের টক্কিতলা গ্রামে। তার বাবা মাইনুল হক প্রান্তিক কৃষক, দুই ছেলে তিন মেয়ে সহ তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ আনিকূল। অনিকুলের ছোট বোনও জন্মান্ধ। বাবা প্রান্তিক কৃষক। অভাবের সংসার নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। বহু কষ্টে কৃষিকাজ করে জীবন যাপন করে সংসার চালায় তার বাবা। বড় দাদা মোয়াজ্জেম হোসেন বেকার যুবক।

তবুও অনিকুলের দৃষ্টিহীন চোখে স্বপ্ন দেখে বড় হবার। সে জানায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক করতে চায়। বড় হয়ে অন্ধ ছেলেমেয়েদের জন্য বিদ্যালয় নির্মাণ করতে চায় আনিকুল। মেধাবী আনিকুল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এখন অনুপ্রেরণা। তার সাফল্য খুশি শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে শুরু করে এলাকাবাসী।

উল্ল্যেখ আজকের সমাজে অন্ধদের পরিবারের বোঝা হিসাবে মনে করেন অনেকেই। কিন্তু অন্ধরাও আর পাঁচটা ছেলেমেয়েদের মত বেঁচে থাকার ইচ্ছা জাগে। তারাও দুই নয়নে স্বপ্ন দেখে কিছু করার। কিন্তু পদে পদে তারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাদেরকে একটু উৎসাহ দিলে তারা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারে এমনি মন্তব্য করেন স্পার্ক (অন্ধ) স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধর মোঃ হাবীবুল্লাহ।