কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম : উপযুক্ত নথি ছাড়া নির্মাণ কাজের বিল পাসের দাবিতে নির্মাণ সহায়ককে মারধর ও গ্রাম পঞ্চায়েতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল এক ঠিকাদার তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লক এর বালিজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতে।

যদিও অভিযুক্ত ঠিকাদার ঘটনার কথা অস্বীকার করে বলেন, নির্মাণ সহায়ক তার কাছে বিল পাস এর বিনিময়ে টাকা চেয়ে ছিলেন সেটা দিতে অস্বীকার করায় তিনি আমার বিল আটকে দিয়েছেন। গ্রাম পঞ্চায়েত এর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিডিও অফিস এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয় এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযুক্ত ঠিকাদার ও তৃণমূল কর্মী হলেন নলাখ খান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বালিজুরি গ্রাম পঞ্চায়েত নির্মাণ সহায়ক মিলন মাহাতাকে মারধরের পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ভাঙচুর চালানোর। অভিযোগ এদিন তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যান এবং আগয়া গ্রামে একটি পাকা রাস্তা নির্মাণের ১০ লক্ষ টাকা বিল দাবি করেন। এদিকে সেই নির্মাণ কাজের উপযুক্ত নথি না থাকায় সেই বিল দিতে অস্বীকার করেন পঞ্চায়েত নির্মাণ সহায়ক। আর তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই আধিকারিক কে মারধর এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তান্ডব চালান ঠিকাদার।

নির্মাণ সহায়ক মিলন মাহাতা বলেন, ওই ঠিকাদার উপযুক্ত নথিপত্র ছাড়া রাস্তা নির্মাণের বিল নিতে এসেছিলেন। আমি সেটা দিতে অস্বীকার করায় তিনি আমাকে মারধর করেছেন ও পঞ্চায়েতে ভাঙচুর চালিয়েছেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মুনমুন ঘোষ বলেন, পঞ্চায়েতের কর্মী কে মারধর এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বিডিও অফিস এবং থানায়।

দুবরাজপুর ব্লক বিডিও অনিরুদ্ধ রায় বলেন, বালিজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি নির্মাণ কাজের বিল কে কেন্দ্র করে যে সমস্যা হয়েছে সেই অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঠিকাদার তথা তৃণমূল কর্মী নলাখ খান বলেন, আমি যে নির্মাণ কাজ করেছি তার বিল এর বিনিময়ে নির্মাণ সহায়ক আমার কাছে টাকা দাবি করেছেন আমি সেটা দিতে অস্বীকার করায় আমার বিল আটকে দেওয়া হয়েছে। দুবরাজপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ভোলা নাথ মিত্র বলেন, গন্ডগোলের বিষয়টি শুনেছি। প্রধান এবং ঠিকাদার দুজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ব্যবস্থা নেওয়া হবে দলীয় ভাবে।