নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, নদীয়া : নতুন আধার কার্ড বানানো নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছে নদীয়া করিমপুর ১ ও ২ ব্লকের বাসিন্দারা। দূর-দূরান্তের গ্রামবাসীরা কাক ভোরেই ছুটে আসছেন করিমপুরের রেগুলেটেড মার্কেট সংলগ্ন একটি তথ্য মিত্র কেন্দ্রে। কেউ বলছেন ৩-৪ দিন থেকে ঘুরছি, কেউ রাত দেড়টার সময় এসেও দীর্ঘ লাইনে পড়ছেন।


সাহেবপাড়ার আলাউদ্দিন মালিথা ভুক্তভোগীদের একজন। তিনি ক্ষোভের সুরে বলছিলেন, আগে নিজ নিজ এলাকায় ই-আধার সেন্টার ছিল। সেখানেই এলাকার মানুষজন আধার কার্ড করাতে পারত। কিন্তু ইদানিং সেই সব সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

পন্ডিতপুরের আব্দুর রউফ সামীম ছেলের আধার কার্ডের জন্য দুই সপ্তাহ ধরে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। টিডিএন বাংলাকে তিনি বললেন, গতকাল এই সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয় সকাল ৬টার আগেই আসবেন। আমি তো ভোর পাঁচটায় এসেও দেখছি আমার আগেও ৪৫ জনের নাম লেখা হয়ে গেছে। এখানে কোন সিস্টেম মানা হচ্ছে না। কারণ জানতে চাইলে বলা হচ্ছে, আমরা কোন কৈফিয়ত দিতে পারবোনা।


এমনি করে ২০কিমি দূরের গ্রাম নারায়ণপুর থেকে ছেলের আধারের জন্য এসেছিলেন শাহাদত মণ্ডল। তিনি বলেন, সেই ভোর চারটে এসে লাইন দিয়েছি। দুদিন ধরে ঘুরছি। ছেলের আধার কার্ডটা আজও হলোনা। মূলত করিমপুরের ওই কমন সার্ভিস সেন্টারে সপ্তাহে ৩ দিন শুক্র,শনি ও রবিবার আধার কার্ডের কাজ হয় বলে জানা গেছে। ঐ আধার অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এবিষয়ে কথা বলতে চাননি। বিজ্ঞাপিত মোবাইল নম্বরটিও তার বন্ধ।

দীর্ঘ লাইনে তিতিবিরক্ত মানুষদের ক্ষোভ বারবার এসেও তারা হয়রান হচ্ছেন। ওরা ঠিকমতো আসছেন না। লাইন মানছেন না। রাত দেড়টার সময় এসেও অনেকের নাম আগে থেকেই লেখা হয়ে যাচ্ছে। কিভাবে হচ্ছে? প্রশ্ন করলেও কোন উত্তর মিলছে না। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।ধোড়াদহ থেকে বছর পঁয়তাল্লিশের জরিনা বিবি, ছেলে রিয়াজুলকে নিয়ে পিপুলখোলার কফাত বিশ্বাস আধার কার্ডটি বানানোর জন্য ভোর চারটে থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে। কখন যে তাদের পালা আসবে সেই অপেক্ষায়।

ওয়েলফেয়ার পার্টির নদীয়া জেলা সভাপতি সাহাবুদ্দিন মন্ডল বলেন,

আধার যখন এতই গুরুত্ত্বপূর্ণ তখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবিষয়ে নজর দিক। নিজ নিজ পঞ্চায়েত এলাকায় সরকারি ভাবে সেন্টার খোলা হোক। করিমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, মানুষ যাতে হয়রানি না হয় তার জন্য ব্লক প্রশাসনের এবিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।