টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডাকে ২১ জুলাইয়ের আন্দোলনে সামিল হতে গিয়ে তার যে এই পরিণতি হবে সেটা কোনোদিনই ভাবতে পারেনি বাগনানের হাটুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুঁয়েরা গ্রামের বাসিন্দা আবেদ আলি খাঁ (৬১)। ২৬ বছর আগে সেদিনের সেই আন্দোলনে সামিল হয়ে পুলিশের একের পর এক লাঠির ঘা খেয়ে বর্তমানে আবেদ আলি নার্ভের রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় শয্যাশায়ী। তার আক্ষেপ সেদিনের আন্দোলনে সামিল হওয়ার পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও আজ তার কেউ খোঁজ রাখে না।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নো ভোটার আইকার্ডে নো ভোট নো আন্দোলনে যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে বাগনানের আবেদ আলি খাঁ কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেদ আলি জানান,আমি দুপুরে ব্রেবোন রোডে পৌঁছানোর আগেই বাম সরকারের পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে। আর এর মাঝে পড়ে যাওয়ায় আমিও রক্ষা পাইনি। শরীরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের লাঠির আঘাতের পর ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে কোনোরকমে হাওড়া স্টেশন পৌছাই। পরে ট্রেন ধরে বাগনান স্টেশনে নেমে অন্যের সাহায্যে বাড়ি পৌঁছাই। সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে চিকিৎসককে দেখানোর পর শরীরে কোনো সমস্যা দেখা না দিলেও পরে আস্তে আস্তে নার্ভের রোগ ধরা পরে।

বাগনানের বিধায়ক অরুনাভ সেন আর্থিক সাহায্য করলেও বর্তমানে সেটাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার খরচ জোগাতে সমস্যা হচ্ছে। তার আক্ষেপ সেদিনের ঘটনার পর ২১ জুলাই কমিশন নিহত ও আহতদের আর্থিক সুপারিশ করলেও আমার ভাগ্যে সেই শিকে ছেড়েনি। অন্যদিকে আবেদ আলি খাঁকে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূলের হাওড়া জেলা (গ্রামীন) সভাপতি পুলক রায়। তিনি বলেন,’আমরা সবসময় ওনার পাশে আছি।’ যুগশঙ্খ