নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : রাত পোহালেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। কিন্তু এখনও পাননি এডমিট। ফলে পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তেও তারা আদৌ পরীক্ষায় বসতে পারবে কি না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের নিমতিতা জিডি ইনস্টিটিউশনের ২৩ জন পড়ুয়া। স্কুল কর্তৃপক্ষের গা ছাড়া মনোভাবের জেরে ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও। যদিও প্রধান শিক্ষকের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় বসানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন তিনি, কিন্তু টেস্টে উত্তীর্ন না হওয়ার জন্যই তাদের এডমিট আসেনি।

মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের বিড়ি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রী অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত নিমতিতা জিডি ইনস্টিটিউশন। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরাই বাবা মায়ের সাথে বিড়ি বেঁধে, কেউ বা রাজমিস্ত্রী কাজ করে পড়াশুনা করেন। স্বভাবতই এলাকার ছাত্রছাত্রীদের উন্নত মানের রেজাল্ট খুব কম। এবছর নিমতিতা স্কুল থেকে ৪৩৮ জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। এবারে তাদের সেন্টার পড়েছে সাহেবনগর হাইস্কুলে। গত বুধবার থেকে ছাত্রছাত্রীদের এডমিট বিতরণ চললেও স্কুলের মোট ২৩ জন পড়ুয়া এডমিট না পেয়ে হতাশ হয়ে যান। বারবার প্রধান শিক্ষকের কাছে দরবার করলেও মেলেনি ফল। ফলত জীবনের সাবথেকর বড় পরীক্ষা নিয়ে হতাশ ছাত্রছাত্রীরা। ফরমফিলাপের পরেও কেন এডমিট এলো না তা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে এলাকাবাসী। সোমবার ক্ষোভে স্কুল গেটে বিক্ষোভও দেখান ছাত্রছাত্রীরা।

স্কুলের ছাত্র সত্যদেব ঘোষ, শুভঙ্কর সিনহা, কারীম শেখ, সেন্টু ঘোষদের দাবি, স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের জীবন নয় ছিনিমিনি খেলছে। কত আসা নিয়ে মাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিলাম। আর এডমিট না দিয়ে তারা সব ভেস্তে দিলো। যদিও প্রধান শিক্ষকের দাবি, টেস্টে উত্তীর্ন না হলেও গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের মাধ্যমিক যেন দিতে পারে তার আসা নিয়েই ফর্ম ফিলাপ টা করেছিলাম। কিন্তু এডমিট না আসায় আমরা তাদের দিতে পারলাম না ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র দের নিয়ে গঠিত আলুমনি এসোসিয়েশনের ওয়ার্কিং কমিটির সভাপতি তরুণ কুমার সিনহা। তার কথায়, প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতেই ফল পোহাতে হচ্চে স্কুল ছাত্রদের। তিনি প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান।