নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: ৮০ লক্ষ জনসংখ্যা বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার আট মাস পরেও তার কোনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় ফের জোরদার আন্দোলনে নামলো ফোরাম ফর ইউনিভার্সিটি ইন মুর্শিদাবাদ(ফাম)। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে আয়োজিত এই মানব বন্ধনে সামিল হন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী থেকে বুদ্ধিজীবিরা। জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণার পরেও সরকারের টালবাহানার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন ছাত্র যুবরা ।

মানব বন্ধনের উদ্যোক্তা তথা ফোরাম ফর ইউনিভার্সিটি ইন মুর্শিদাবাদের সভাপতি আইনজীবী মোজাম্মেল হক বলেন, রাজ্য বিধানসভায় যে ছয়টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাশ হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় বিল’। কিন্তু তারপরে প্রশাসনের দিক থেকে এব্যাপারে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি রাজ্য সরকার বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজকেই বেছে ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের দিকে জোড়াতালি মেরে এগোচ্ছে। কিন্তু উক্ত কলেজে রেগুলার কোর্স ছাড়াও বিভিন্ন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের কাজ চলায় অধিক ভারে ভারাক্রান্ত। উক্ত কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার কোন পরিকাঠামো আদৌ নেই। তাই আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় হোক পৃথকভাবে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ করে বিশেষ করে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এবং জেলার ঠিক মধ্যস্থলে। এতে জেলার সমস্ত পড়ুয়াদের যোগাযোগে সুবিধা হবে। ”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ‘পিছিয়ে পড়া’ মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে ২০১৭ সাল থেকে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছে ফাম । ফাম ফারাক্কা থেকে লালগোলা পর্যন্ত কয়েকদফা রিলে পদযাত্রা সংগঠিত করে। বিভিন্ন স্কুল কলেজে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে লাগাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি সম্বলিত প্রচার করেছে, এমনকি কোলকাতা বইমেলা সহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন গণসমাবেশ গুলিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন তথা পঠনপাঠনের কাজ অতিদ্রুত শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ারও হুমকি দিয়েছে ‘ফাম’। এদিকে অরাজনৈতিক সংগঠন ফামের মানব বন্ধনে বুদ্ধিজীবি থেকে শিক্ষানুরাগীদের অনেকাংশ যোগ দেন। এছাড়া শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন স্তরের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। মানব বন্ধনে সাধারণ মানুষ স্বত:স্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহন করায় জেলাবাসীকে অভিনন্দন জানান ফোরামের সভাপতি আইনজীবি মোজাম্মেল হক।