নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা: চাষী চাষ করেই আনন্দ পায়। কিন্তু সেই চাষের সুযোগ না পেলে মন খারাপ হয়। দুই বছরের প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার পর ফের গম চাষ হচ্ছে সীমান্তের জেলাগুলিতে। আর আজ সবুজ মাঠ পেয়ে খুশি চাষীরা। বিগত দুই বছর গম চাষ হয়নি নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদার মতো জেলায়। ওইসব জেলার বিভিন্ন এলাকায় হোর্ডিং লাগিয়ে কৃষি দফতরের পক্ষে প্রচার করা হয়েছে যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও গম চাষ করা যাবে না। প্রশাসনের লোকেরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে গম চাষিদের সে কথা বুঝিয়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে লক্ষাধিক বিঘা জমির গম ঝলসা রোগে নষ্ট হয়েছে। তাই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গম চাষে নিষেধাজ্ঞা। সে সময় গম চাষ বন্ধ করতে বিকল্প হিসেবে ডাল বা সর্ষে বীজ বিলি করেছিল কৃষি দফতর। কিন্তু তা বেশির ভাগ চাষির হাতে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। গমের বদলে বিকল্প চাষের সরকারি প্রচারও শহরের গণ্ডী ছাড়িয়ে গাঁয়ের মাঠাঘাটে পৌঁছয়নি। ২০১৮ সালে চাষ বন্ধ থাকলেও ২০১৯ সালে কেউ কেউ প্রশাসনের কথা না মেনে চাষ করেছিল। তবে এই বছর গম চাষ হচ্ছে। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদার চাষীরা তাই খুশি।

নদীয়া জেলার করিমপুর-২-এর বিডিও সত্যজিৎ কুমার এই প্রতিবেদককে জানান, এবার গম চাষ হচ্ছে। কৃষকের কাছে গমের বীজ ছিল না , তাই জেলা কৃষি দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট বীজ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট রকমের গমের চাষ হচ্ছে।

এদিকে কৃষকরা বলছেন, দুই বছর গম চাষ না হওয়াতে সমস্যায় পড়েছিলেন। জব,ভুট্টা তেমন হত না। ফলে ধান চাষের বাইরে তেমন কিছু হয়নি।মুর্শিদাবাদের ডোমকলের এক কৃষক টিডিএন বাংলাকে জানান, বাড়িতে রুটি না থাকলে হয়? দুই বছর গম চাষ করিনি। গম চাষ করলে নাকি বাংলাদেশ থেকে ছত্রাক না কী রোগ আসবে। খুব কষ্টে গেছে। এবার গম চাষ করতে পেরে ভালো লাগছে।

এখন গোটা মাঠ জুড়ে গম। গত বছর এই সময় সীমান্তের ওইসব জমিতে মসূরী, সরষে, আলু চাষ হয়েছে। এবার সবুজে ঢেকেছে মাঠ। সেই আগের চেনা ছবি। কৃষক মাঠে যাচ্ছে, আগাছা তুলছে, গমের যত্ন করছে। চৈত্র মাস এলেই সোনালী গম ঘরে উঠবে। নতুন গমের নতুন আকর্ষন। মিষ্টি সুঘ্রাণ। সেই আশায় দুই বছর পর ফের গম চাষ করছে চাষী।  আবার কেউ কেউ বলছেন, ফের যেন ছত্রাক রোগ না আসে। আর গমের রোগ হলে কৃষিদপ্তর যেন ঔষধ দিয়ে নিরাময় করে। ধান, গম না হলে কি সংসার চলে বলুন?অনেক কৃষক বলছেন, গম চাষ হলেও তেজ নেই গমের। যেন মরা রোগ লেগেছে।