টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আসন সমঝোতা নিয়ে জট অব্যাহত। তার মধ্যেই শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৫ জনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বামেরা। অবশেষে কৌতূহলের অবসান। চমক দিয়েই বামেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হল। কারণ, কংগ্রেসের সঙ্গে রফাসূত্র বের করার দরজা খোলা রাখা হয়েছে। কংগ্রেস কিন্তু জোটের ব্যাপারে এখনো আশাবাদী। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধানসূত্র বের করা হবে। এর আগে রাজ্যের ২ কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে সিপিএম। বাকি আসনে কংগ্রেসের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কে কোথায় লড়বে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানানো হয়েছে বিমান বসুর নামে জারি করা বামফ্রন্টের প্রেস বিবৃতিতে। এই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনায় ঠিক হয়েছিল যে, গতবারের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে সিপিএমের জেতা আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না এবং একইভাবে কংগ্রেসের জেতা ৪টি আসনে বামেরা প্রার্থী দেবে না। এদিন জানা গেছে, বামেদের বাকি প্রার্থীদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ আসন সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী প্রার্থী তালিকায় কারা জায়গা করে নেবেন।

হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ সেলিম, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রমুখ। মহম্মদ সেলিম দাঁড়াচ্ছেন, রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে। নেপালদেব ভট্টাচার্য দাঁড়াচ্ছেন দমদম কেন্দ্র থেকে। ডায়মন্ডহারবার থেকে দাঁড়াচ্ছেন ফুয়াদ হালিম। যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা নিয়ে অনেক দিন ধরেই জট চলছে। রাহুল গান্ধী ও সীতারাম ইয়েচুরি আসরে নেমে কয়েকটি আসনে জট ছাড়িয়েছেন। বামেদের প্রার্থী তালিকা নিয়ে কৌতূহল ছিল। কারণ কী?

জোট যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কিন্তু লড়াইটা কঠিন হবে। বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের লড়াই। কারণ বিজেপি এবার প্রথম থেকে বাংলাকে পাখির চোখ করেছেন। আর সব ফ্যাক্টর দূরে সরিয়ে রেখে জেতাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর প্রার্থী তালিকায় এমনটাই প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিন বামেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর একটা কথা বলাই যায়, জোটের রাস্তা খোলা রইল। সোমেন মিত্রও এমনটাই বললেন। তিনি বলেন, বিমান বসু তাঁকে ফোন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। তিনি জোটের ব্যাপারে এখনো আশাবাদী। কংগ্রেস ২-১ দিনের মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। আগামী কাল প্রদেশ কংগ্রেসের বৈঠক। সেখানে প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর তা দিল্লিতে হাইকমান্ডের কাছে পাঠানো হবে। দিল্লি অনুমোদন দিলে, তা চূড়ান্ত হবে। দেখা যাক, জোট কোন তরীতে গিয়ে ঠেকে!