সামাউল্লাহ মল্লিক, কলকাতা : নোট বাতিল ইস্যু নিয়ে সরগরম সারা ভারত। পিছিয়ে নেই বাংলার আম জনতাও। ফেসবুক, ট্যুইটার এবং বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপিকে নিয়ে চলছে নানা ধরনের মজার কৌতুক। এই দৌড়ে এইবার শামিল হলেন গায়ক কবির সুমন সহ জয় গোস্বামী, নাট্যকার দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক ডা: দীপঙ্কর দে, প্রবীর মজুমদার, মনোজ গুপ্ত, অনন্যা চক্রবর্তী এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায় এর মত বেশ কিছু প্রবীন বুদ্ধিজীবী। কলকাতা প্রেস ক্লাবে শুক্রবার শহরের এই সমস্ত প্রবীন বুদ্ধিজীবীরা প্রেস কনফারেন্স করে মোদী সরকারের নোট বাতিল ইস্যু নিয়ে সওয়াল খাড়া করেন।

প্রবীণ গায়ক কবির সুমন ছন্দ মিলিয়ে মজা করে বলেন, “কালো যদি মন্দ তবে, কেশ পাকিলে কান্দ ক্যানে ?” মোদী সরকারের তুঘলকি শাষন ব্যাবস্থার বিরোধীতা করে তিনি নাজীব কিডন্যাপ, ভোপাল ফেক এনকাউন্টার ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেও স্বযত্নে এড়িয়ে যান ইউনিফর্ম সিভিল কোর্ড এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একরাশ প্রসংসা করতেও ভোলেননি সুমন।

124-1

প্রফেসর ড. দীপঙ্কর দে বক্ত্যব্য রাখতে গিয়ে নোট বাতিল ইস্যুকে একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “যেদিন রাতে নোট বাতিল করার ঘোষনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক তার পরের দিন আমেরিকা পেতে চলেছিল নতুন প্রেসিডেন্ট। আমরা যদি দেখি বিগত কিছু সময় ধরে ডলারের মূল্য ছিল নিম্নমুখী। এমতাবস্থায় ভারতের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে আখেরে ফায়দা হল আমেরিকার। তাহলে কী আমরা মনে করে নেব আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্টকে খুশী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল ?” তিনি আরো বলেন বিগত ৩০ মাসে ভারতীয় টাকার দাম, আমেরিকার ডলারের তুলনায় ৮.৫০ টাকা কমেছে তার উপর এই নোট বাতিল সিদ্ধান্ত মূলত ভারতের অর্থব্যাবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র।

মনোজ গুপ্ত বক্ত্যব্য রাখতে গিয়ে সমস্ত বক্তাদের কথার রেষ ধরে বলেন উদ্দেশ্য ভাল কিন্তু তার আগে উ124-2পায় বের করা উচিত ছিল।

সভার শেষ লগ্নে বক্ত্যব্য দিতে এসে জয় গোস্বামী তুলে ধরেন গরীব খেটে খাওয়া বিড়ি শ্রমিক এবং ইটভাটায় কর্মরত লোকেদের কথা। তিনি বলেন “৬০ হাজার বিড়ি শ্রমিক বেকার হয়ে গিয়েছে, ইটভাটার মালিকেরা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে না পারার কারনে তারশ্রমিকদের টাকা না দিতে পারায় কাজ বন্ধ রেখেছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। সভায় সমস্ত বক্তারাই মোদী সরকারকে কোণঠাসা করে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেন।