নিজস্ব ছবি

অমিত শাহের সভার জায়গা নিয়ে নাজেহাল অবস্থা বিজেপির

কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম : রথ যাত্রার পর দলের সর্বভারতীয় সভাপতির সভার জায়গা নিয়ে নাজেহাল অবস্থা বিজেপির। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অছিলায় সরকারি মাঠ পাওয়া যাবে না, তা জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। অগত্যা নিজেদের কর্মীর চাষের জমিই ভরসা বীরভূম জেলা বিজেপির।

আগামী ২৩ শে জানুয়ারি বীরভূমে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সেদিন তিনি বীরভূমের সদর শহর সিউড়িতে একটি জনসভা করবেন। সেইমতো সিউড়ি শহর লাগোয়া করিধ্যা পঞ্চায়েতের অন্তগত রানিগঞ্জ মোরগ্রাম ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া পাইপলাইনে একটি মাঠে জনসভার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কর্মী-সমর্থকরা।মাঠ পরিদর্শনও করে গেছেন রাজ্য নেতৃত্বরা।

বিজেপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিজেপি দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে সিউড়ি শহরের সেচ দপ্তরের কলোনি ময়দান, জেলা স্কুল ময়দান অথবা চাঁদমারি ময়দানের মধ্যে যে কোন একটিতে​ জনসভা করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন কোন মাঠ দিতে রাজি হয়নি।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি অনুষ্ঠানের জন্য আগে থেকেই জেলা স্কুল ময়দান বুকিং করা আছে, অন্যদিকে প্রতিবছর ২৬ শে জানুয়ারি চাঁদমারি ময়দানে পুলিশের পক্ষ থেকে প্যারেড হয় এই কারণে ওই দুটি মাঠ দেওয়া সম্ভব নয়। আর সেই দপ্তরের কলোনির মাঠে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি র করার জন্য দেওয়া হয় না।

যদিও প্রশাসনের দাবি কে নিছকই কি অজুহাত বলে মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্বরা।বিজেপি নেতাদের মতে, তাদের জনসভা বানচাল করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বিজেপির বীরভূম জেলার সাধারণ সম্পাদক কালো সোনা মন্ডলের নিজের জমিতে জনসভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, “গত শুক্রবার আমরা মাঠ এর জন্য প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাইতে গেছিলাম।আমরা জেলা স্কুল মাঠ অথবা চাঁদমারি মাঠের মধ্যে যেকোনো একটি দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম।কিন্তু জেলা প্রশাসন নানান অজুহাতে অনুমোদন দিতে অস্বীকার করে।তাই বাধ্য হয়ে কালোসোনা মন্ডল এর জায়গাতে জনসভার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

যদিও বিজেপির মাঠ বিতর্ককে পাত্তা দিতে নারাজ শাসক দল।তৃণমুলের বীরভূম জেলার সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, “মাঠ কেন দেওয়া হয় নি সেটা প্রশাসনের ব্যাপার। কেও যদি ব্যক্তিগত ভাবে জায়গা দেয় সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। গতকালের ব্রিগেড সমাবেশ দেখে বিজেপির চক্ষু চড়ক গাছ।তাই অমিত শাহ বীরভূম তো আসতেই চাইছেন না, সভার জন্য মাঠ নেওয়া তো দূরের কথা।”