নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, রানাঘাট: বিয়ের অনুষ্ঠানে সংবিধান বিরােধী নাগরিত্ব আইন তথা সিএএ ও এনআরসি, এনপিআর- এর বিরােধীতা করে সাড়া ফেলেছিলেন বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই নেতা স্বরূপ মুখার্জী আর তার নব বধূ মৌমিতা। এবার বৌভাতের অনুষ্ঠানেও সেই ধারা বজায় থাকলা। বৌভাতের দিনেই স্বরুপ ও তার বন্ধুরা সামিল হলাে রক্তদান শিবিরে।

এদিন রক্তদানের লক্ষ‍্যে “ মানুষ মানুষের জন্য”- এই নামে ব্যানার করা হয়। যুবনেতা স্বরূপ দীর্ঘদিন ধরেই রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম মুখ। যদিও তিনি তাঁর মূল সংগঠন ডি.ওয়াই.এফ.আই এর ব্যাপারেই বেশি তৎপর। তবে বিবাহের অনুষ্ঠানের সাথে রক্তদান একটু ভিন্ন ধরনের।

স্বরূপের কথায়, “ রক্তদান মানেই সমাজিক দায়বদ্ধতা আর সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে সম্প্রীতির অমােঘ বার্তা। তা সে যে অনুষ্ঠানেই হােক না কেন , বিবাহ বন্ধনের সাথে সম্প্রীতির বন্ধন ”।

এদিনের রক্তদান অনুষ্ঠানে রক্তদিতে সামিল হওয়া যুবক যুবতীরাও এমনকি এলাকার সাধারণ মানুষও স্বরূপের এই মানবিক উদ্দ্যোগের প্রশংসা করছেন। রক্তদানের পাশাপাশি এলাকার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের বস্ত্র বিতরণ ও গণভােগের আয়ােজন করা হয়।

৪জন যুবতী সহ মােট ৫২ জন রক্তদান করেন। সন্ধ্যা থেকে আবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও ব‍্যবস্থা করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে আবার অংশ গ্রহণ করেন পলাশি থেকে আগত বাউল গৌতম ও কৃষ্ণ অধিকারীরা। তারা লালন থেকে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর গান গেয়ে প্রেম আর সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে যান। বিবাহের সানাই এ যখন বিসমিল্লা খান তখন কৃষ্ণ অধিকারী গৌতম মিস্ত্রীরা গেয়ে চলেছে – সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে। বিবাহের অনুষ্ঠানের মাঝে যা দেশ ও রাজ্যের বর্তমান টানাপােড়নের আবহে যথেষ্ঠ ইঙ্গিত বাহী। বলা যেতেই পারে এমন বিবাহ অনুষ্ঠান রাজ‍্য তথা দেশের কাছে নজিরবিহীন।