সেখ শানাওয়াজ আলি, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: বিগত কিছুদিন আগে শিশু বিকাশ প্রকাশনী নামক একটি বই প্রকাশনী সংস্থা, দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে মুহাম্মদ( সা:) এর কাল্পনিক ছবি ছাপিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে অবশ্য তাঁরা ক্ষমা চেয়ে নেন ও সমস্ত বই বাজার থেকে তুলে নেবার বিজ্ঞপ্তি দেন। এদিকে আরেকটি প্রকাশনী নিজেরাই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমাপ্রার্থী হলেন। প্রজ্ঞাভবন প্রকাশনী নামক এই সংস্থাটির ছাপানো চতুর্থ শ্রেণীর একটি বইয়ে মুহাম্মদ (সা:) এর জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর ছবি ছাপিয়ে ফেলেন অজ্ঞাতে।

প্রকাশনীটির তরফ থেকে জামায়াতে ইসলামীর কাছে লিখিত ভাবে ক্ষমা চেয়ে দাবি করা হয়, মুহাম্মদ(সা:) এর কল্পিত ছবি তাঁরা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করেছিলেন, তারা জানতো না যে এই কাল্পনিক ছবি আসলে ছাপানো যায় না। এই বইগুলি তারা বাজার থেকে তুলে নিচ্ছেন এবং সেই বইটি নতুন করে ইসলাম ধর্মের পবিত্র ক্বাবা শরীফের ছবি দিয়ে পুনরায় ছাপানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিনকে দেওয়া একটি আবেদন পত্রে প্রকাশক শোভন মন্ডল জানান যে , “যথাবিহিত সম্মান পূর্বক আমার বিনীত নিবেদন আমার প্রকাশনা সংস্থা ‘প্রজ্ঞাভবন’ কর্তৃক প্রকাশিত ‘সভ্যতার ইতিহাস’ (৪র্থ) নামক পুস্তকে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়ার সময় ভুলবশত অজ্ঞাতসারে একটি ছবি ছাপা হয় গেছে। আমরা এই ভুল গোচরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি পরিবর্তন করে দিয়েছি। আমার এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি আপনাদের ক্ষমা প্রার্থী। ভবিষ্যতে যাতে এমন ধরনের ভুল না হয় সেই দিকে আমি আন্তরিক ভাবে নজর রাখবো।” বুধবার ওই প্রকাশক জামায়াতে ইসলামীর অফিস এসেছিলেন।

এবিষয়ে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মাদ নুরুদ্দিন টিডিএন বাংলাকে বলেন, ”একাজ তারা না জেনেই করেছেন বলে জানিয়েছেন। তাই মুসলিমদের উচিত তাদের করুণার নজরে দেখা, ক্ষমা করে দেওয়া। আসলে ইন্টারনেটে যেভাবে এইসব ছবিগুলো ছড়িয়ে রয়েছে তাতে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এই বিষয়টি জানার কথা না।” প্রকাশক জানান, ”তিনি জানতেনই না যে মুহাম্মদ (স)এর ছবি নেই আর কল্পিত ছবি প্রকাশ করা যায়না।”