কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: প্রকাশ্য বুথ কর্মী সম্মেলন থেকেই প্রধানকে সরানোর নির্দেশ দিলেন তিনি। পাশাপাশি আরও চারটি অঞ্চল সভাপতি কে সরিয়ে দিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। শনিবার বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ছটি অঞ্চল এবং সাঁইথিয়া ব্লক ও সাঁইথিয়া শহরের কর্মী সভা ছিল। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নীলাবতী সাহা, সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী, দলের সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিনহা সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। অন্যদিকে ফের তৃণমূলে ফিরে এলেন সাঁইথিয়া শহরের বিজেপি নেতা শান্তনু রায়।

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ ফলাফল হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই ঘাটতি পূরণের উদ্দেশ্যে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ শুরু হয়ে গিয়েছে। বুথ কর্মী সম্মেলন বিধানসভা ভিত্তিক ও মহিলা কর্মী সম্মেলন আগামী দুই মাস ধরে অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সাঁইথিয়ার জালিবাগান মাঠে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর সেখান থেকেই দেরিয়াপুর অঞ্চল প্রধান মিঠু বিত্তারকে সরানোর নির্দেশ দিলেন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তার বিরুদ্ধে দেরিয়াপুর অঞ্চল সভাপতি বলরাম মন্ডল প্রধানের স্বামী রঞ্জিত এর বিরুদ্ধে গত লোকসভা নির্বাচনে সবোতাজ করার অভিযোগ করেন সরাসরি।

অভিযোগ পাও‌‌‌য়া মাত্রই জেলা সভাপতি সেই প্রধানকে সরানোর নিদান দিলেন। যদিও ওই অঞ্চলের প্রধানের পদটি মহিলা তপশিলি জন্য সংরক্ষিত আর মিঠু দেবী একমাত্র তপশিলি মহিলা। অন্যদিকে মহম্মদ বাজার বিধানসভার চরিচা, ভূতুরা এবং আঙ্গার গড়িয়া অঞ্চল এই তিনটি অঞ্চলের এবং সাঁইথিয়া ব্লকের হরিসরা অঞ্চলের বর্তমান সভাপতি দেরকে সরিয়ে দিয়ে পাঁচজনের কমিটি করে সেই অঞ্চল চালানোর নির্দেশ দিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি।

শান্তনু রায় ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। তিনি সাঁইথিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর। বিজেপিতে যোগদানের পর তাকে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের কনভেনার করা হয়। সান্তনু বাবু বলেন,” ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলাম। সামান্য কিছু ভুল বোঝাবুঝির ফলে চলে গিয়েছিলাম। গিয়ে বুঝলাম বিজেপি কথাসর্বস্ব দল। দিনের-পর-দিন বিজেপি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে। তাই তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে এলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জন্য”।