নিজস্ব সংবাদদাতা,টিডিএন বাংলা,কলকাতা: এ মসজিদ যেন সবার মুক্তির জায়গা। এখানকার মুসলিম যেন সবার কল্যাণের কথা ভাবে। হ্যাঁ, কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের গা ঘেঁষা উত্তর চব্বিশ পরগনার এয়ারপোর্ট গোপালপুর হাউজের মসজিদের মাইক থেকে দেবলীনা চক্রবর্তীর জন্য সাহায্যের আবেদন করা হয়েছে। জুম্মার খুৎবা শেষে মসজিদের ইমাম ঘোষণা দিলেন,’আমাদের দেবলীনা অসুস্থ। সে দরিদ্র। তার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করুন’। ইমামের ঘোষণার পর চাদর নিয়ে মসজিদের গেটে দাঁড়িয়ে পড়েন মির মাহতাব আলি, কাসেম আলী,আজহারউদ্দিন মন্ডল প্রমুখ মুসল্লিরা।

শুধু অর্থ সাহায্য নয়, ওই মসজিদে দেবলীনা চক্রবর্তীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া করা হয়। ইমাম সাহার আলি সাহেব জুম্মার নামাজ শেষে আল্লার কাছে দুহাত তুলে বিশেষ প্রার্থনা করেন। সেই সাথে মসজিদের মুসল্লি ও গ্রামবাসীরা পাশে দাঁড়ায় দেবলীনার। পাড়ায় পাড়ায় অর্থ সংগ্রহ করে দেবলীনার বাবার হাতে টাকা তুলে দেন স্থানীয় মুসলিমরা।

উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণীর দেবলীনা চক্রবর্তী হঠাৎই মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে স্ট্রোক হয়ে যায়। এখন সে রয়েছে কোমায়। দরিদ্র ঐ ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য পাশে দাঁড়িয়েছে কলকাতার এয়ারপোর্ট সংলগ্ন গোপালপুর জুম্মা মসজিদের মুসল্লি ও গ্রামবাসীরা।

শরিফুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী হিন্দের কর্মী। তিনি টিডিএন বাংলাকে বলেন, আমরা ওই অসহায় মেয়েটির চিকিৎসার জন্য পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত। ওর জন্য আমরা ৫৩ হাজার টাকা কালেকশন করে দিয়েছি। সেই সাথে ইমাম সাহেব জুম্মার নামাজ শেষে দোয়াও করেছেন।

দেবলীনার বাবা দেবাশিস চক্রবর্তী এই প্রতিবেদককে জানান, আমার ছোট্ট মেয়েটির দুঃসময়ে গোপালপুর মসজিদের নামাজিরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে তা কোন দিনও ভুলবো না। আমি তাদের প্রতি এতটাই ঋণী যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মুসলিমরাও যে এভাবে হিন্দুদের বিপদে পাশে দাঁড়ায় তা দেখে আমি মুগ্ধ।

দেবাশিস বাবু আরও জানিয়েছেন, ইমাম সাহেবের দোয়ায় মেয়ে এখন ভালোই আছে। চোখ খুলছে, হাসছে। তবে স্বাভাবিক হতে এখনো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।